EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণ মার্কিন ঘাটি প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ এএম

দুই দশক পর ইরাক থেকে সম্পূর্ণ মার্কিন ঘাটি প্রত্যাহার

ছবি: দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সংগৃহীত

অ অ

দুই দশকের বেশি সময় পর ইরাকে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যেই সেখানে অবস্থিত শেষ ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছে তারা। আর এ ঘটনাকে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে ইরান।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরাকের মাটিতে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। 

ইরান-সমর্থিত সম্মিলিত জোট 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক'-এর একজন কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে "ইরাকি ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সম্মানিত ইরাকিদের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয় এবং আমেরিকান পরিকল্পনার জন্য এক চরম পরাজয়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান এবং আমাদের দেশের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দখলদারদের ব্যর্থতাকে উদযাপন করব। ইরাক প্রমাণ করেছে যে বিদেশি বাহিনী দিয়ে এর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায় না, বরং জনগণের ইচ্ছা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই তা সম্ভব।’’

ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এই সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধাবস্থা বজায় রেখেছে, ঠিক তখনই এটি কার্যকর করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে তেহরান ও তার শক্তিশালী মিত্ররা ইরাকে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সহ আমেরিকার অন্যান্য শত্রুরাও আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেতে পারে।

ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর গবেষণা করা ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, ‘‘জোট বাহিনীর এই প্রস্থানে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হবে। কারণ এটি এমন একটি সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটাচ্ছে, যা বছরের পর বছর ধরে ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছিল।’’

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাক আক্রমণ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এরপর তারা দেশটি দখল করে, সেখানে সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং ২০১১ সালের শেষে প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চলা এক বড় যুদ্ধে সুন্নি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-কে পরাজিত করতে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও মার্কিন সেনারা সেখানে ফিরে আসে।

আফগানিস্তান যুদ্ধের তুলনায় অপারেশন ইরাকি ফ্রিডমে (ইরাক যুদ্ধ) প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকেও আকস্মিকভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকই ছিল একমাত্র দেশ, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান; উভয় দেশের সাথেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক মিত্রতা বজায় রেখেছিল।

২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরে এক ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের মিত্ররা বারবার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে বহুবার আমেরিকার পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন