EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের স্বাগত ভোজে চীনা প্রেসিডেন্ট দম্পতি: দুই দেশের মৈত্রীর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ পিএম

ট্রাম্পের স্বাগত ভোজে চীনা প্রেসিডেন্ট দম্পতি: দুই দেশের মৈত্রীর বার্তা

ছবি: ট্রাম্প দম্পতির স্টেট ডিনারে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান। সংগৃহীত

অ অ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের উষ্ণ অভ্যর্থনায় রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজে অংশ নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট দম্পতি পৌঁছালে দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও স্ত্রীরা একসঙ্গে ছবি তোলে ও উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ভাষণে উঠে আসে দুই দেশের মধ্যকার মৈত্রী। 

এই ভোজে আমন্ত্রিত উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নজর কাড়েন টেসলার সিইও ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। এছাড়া ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এবং ডেল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ও সিইও মাইকেল ডেলসহ প্রযুক্তি ও শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোজ শুরু হওয়ার পর শি জিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ দেন। শি জিন পিং তাঁর বক্তব্যে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী ও সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনা জানান।

শি জিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ৬ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

এবারের সফরে অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, এতে চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

শি জিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে পরবর্তীতে চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানও শুরু হয় তখন।

তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে।

শি জিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন,  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করার আশাবাদ করেন শি জিন পিং।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তার মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। আজ দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মৈত্রী উদযাপন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছা পোষণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন