ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজনকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ভিসা না পাওয়া সদস্যদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দলের কয়েকজনও রয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা সোমবার জানায়, পেজেশকিয়ানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম মেহেরও প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই অভিযোগ করেছেন, এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। তবে ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
পেজেশকিয়ানের বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর এটিই তার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং তিনি যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন।
তবে পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ ইরানের মূল প্রতিনিধিদলকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জাতিসংঘের সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় মূল ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্কে আসার অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে প্রতিনিধিদলের চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকবে। তাদের জাতিসংঘের সদর দপ্তর, ইরানের জাতিসংঘ মিশন, রাষ্ট্রদূতের বাসভবন ও জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। এ ছাড়া বিলাসপণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ইরান ছেড়েছেন। পথে কাতারে যাত্রাবিরতি করে তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৌশলগত এই নৌপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন পুনরায় চালুর বিষয়ে শর্ত জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।