EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন, বড় ব্যবধানে এগিয়ে পুতিনের দল

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন, বড় ব্যবধানে এগিয়ে পুতিনের দল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় এটাই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ক্রেমলিন এ নির্বাচনকে যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে এবং ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিতে চায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা ছিল এটি। রুশ আঞ্চলিক গভর্নর ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

ভোটগ্রহণের সময় রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের দাবি, সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্বাচনের প্রথম সরকারি ফলাফল এবং ভোটার উপস্থিতির চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ। ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত চারটি অঞ্চলের বাসিন্দারাও ভোট দিয়েছেন। ২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা ক্রিমিয়ার বাসিন্দারাও ভোটে অংশ নিয়েছেন।

তবে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এসব এলাকায় নির্বাচন আয়োজনের নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে নির্বাচনের ফল স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও শুক্রবার এ ভোটকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

রাশিয়ার এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। একটি ব্যালটে রাজনৈতিক দল বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের অর্ধেকের জন্য ভোট হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে সরাসরি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

ক্রেমলিনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি স্টেট ডুমায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি ছোট দল, যেগুলোকে রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘সিস্টেমিক বিরোধী দল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তারাও পার্লামেন্টে অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এসব দল গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে পুতিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোট দেয়।

অন্যদিকে যুদ্ধের প্রকাশ্য সমালোচনাকারী উদারপন্থি ইয়াবলোকো পার্টিকে গত মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের ব্যালট থেকে বাদ দেয়। একক আসনের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দলটির কয়েক ডজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো হয় অথবা তারা বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হন। রাশিয়া ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষককেও আমন্ত্রণ জানায়নি।

আরও পড়ুন