EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্রুত, বাংলাদেশসহ ৮ দেশে বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্রুত, বাংলাদেশসহ ৮ দেশে বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া ও পর্বতাঞ্চলে একের পর এক আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের ঘটনায় বাংলাদেশসহ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। সাম্প্রতিক নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ দুর্যোগের পর বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তন এখন আর শুধু পাহাড়ি এলাকার সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলেও।

হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া নদীগুলো প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে হিমবাহ ও বরফস্তরের দ্রুত পরিবর্তন হলে এর প্রভাব বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড়ের অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক উষ্ণতা, বরফ ও পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া এবং পাহাড়ের ঢালের অস্থিতিশীলতা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে কোনো হিমবাহ বা হিমবাহ-হ্রদ দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে তা আগে থেকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকার নিম্নপ্রান্তে অবস্থান করছে। উজানে আকস্মিক অতিবৃষ্টি, হিমবাহ ধস বা পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হলে তার প্রভাব নদীর পানিপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে সীমান্তপারের দুর্যোগের আগাম তথ্য বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা তাই আট দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, যৌথভাবে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। হিমবাহ, পাহাড়ি হ্রদ ও নদীর পানির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া গেলে আকস্মিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণগুলোও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন হিমালয়ের বরফ ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। হিমালয়ে যা ঘটছে, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত নিচের দেশগুলোর নদী, পানি, কৃষি ও জনজীবনেও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন