চীনে ধর্মচর্চায় নজরদারি আরও কড়া! তথ্য দিলেই মিলছে নগদ পুরস্কার: এইচআরডব্লিউ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
চীনে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে সরকার যেসব ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচনা করছে, সেগুলোর তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি তথ্যদাতাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই চীনের অন্তত এক ডজন শহর ও এলাকায় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইউনান প্রদেশের হংহে এলাকায় ৩৫ ধরনের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে প্রতিবেদনে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অননুমোদিত স্থানে ধর্মীয় সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় প্রচার, ধর্মীয় বই বা প্রচারপত্র বিতরণ এবং অনুমোদনহীন ধর্মীয় শিক্ষা আয়োজনের মতো কর্মকাণ্ড রয়েছে।
কিংহাই প্রদেশের হাইডং শহরে হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সির মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর ওপর নজর রেখে ‘সন্দেহজনক’ কর্মকাণ্ডের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে কথিত ‘অবৈধ’ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৮০০ ইউয়ান পুরস্কার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই অর্থ প্রায় ১২০ মার্কিন ডলারের সমান বলে এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, এসব পদক্ষেপ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০১৬ সালে শুরু করা ‘ধর্মের চীনাীকরণ’ নীতির আরও বিস্তৃত প্রয়োগের অংশ। সংস্থাটির অভিযোগ, এর ফলে খ্রিস্টান, মুসলিম ও তিব্বতি বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপ ও নজরদারি বেড়েছে।
শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীরাই নয়, তাদের অধিকার রক্ষায় আইনি সহায়তা দেওয়া ব্যক্তিরাও চাপে পড়ছেন বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ। উদাহরণ হিসেবে সংস্থাটি চীনের ভূগর্ভস্থ প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা ‘জিয়ন চার্চ’-এর আইনজীবী রুথ ওয়াংয়ের কথা উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষ তার আইন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তিনি তাইওয়ানে চলে যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই গির্জার প্রতিষ্ঠাতা যাজক এজরা জিনকে জুলাইয়ে মুক্তি দেওয়া হলেও আট সদস্য এখনো আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া চীনের নতুন জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইনে প্রথমবারের মতো ‘অবৈধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড’ প্রশাসনিক আটকের ভিত্তি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় পাঁচ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত প্রশাসনিক আটক হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
তবে চীনা সরকার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলে। দেশটিতে পাঁচটি ধর্মকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এইচআরডব্লিউর মতে, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থাপনা, প্রকাশনা, অর্থায়ন ও অননুমোদিত ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কঠোর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। নাগরিকদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পুরস্কারের ব্যবস্থা সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছে এইচআরডব্লিউ।