হুতিদের ঠেকাতে চীনের দ্বারস্থ সৌদি! ইরানকে চাপ দিতে বেইজিংকে অনুরোধ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা ঠেকাতে চীনের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের অনুরোধের পর বেইজিং ব্যক্তিগতভাবে তেহরানকে হুতিদের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে।
প্রকাশ্যে চীন সংযম, সংলাপ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও, ইরানি সূত্রগুলোর দাবি—ব্যক্তিগত বার্তায় বেইজিং তেহরানকে হুতিদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সংঘাত যাতে লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে আরও না ছড়ায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছে। তবে চীনের এই বার্তা কীভাবে তেহরানের কাছে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট নয়।
চীনের উদ্বেগের জবাবে তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। একই সঙ্গে, হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি চীন দেয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
লোহিত সাগর নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন চীন?
ইরান চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের অস্থিতিশীলতা বাড়লে বেইজিংয়ের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক স্বার্থেও চাপ পড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলও সংকুচিত থাকা অবস্থায় লোহিত সাগরের নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ একই সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে।
এরই মধ্যে হুতিদের অগ্রযাত্রায় সৌদি তেল অবকাঠামোও চাপের মুখে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তেহরান কি হুতিদের থামাতে পারবে?
চীনের অনুরোধের পর ইরান বাস্তবে হুতিদের ওপর কতটা প্রভাব খাটাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ তেহরানের সঙ্গে হুতিদের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও চীনের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্স বলছে, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এখন শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব, হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও নতুন চাপ তৈরি করছে। আর এই পরিস্থিতিতে সৌদির অনুরোধে চীনের তেহরানের দিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।