EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইরাক থেকে ড্রোন হামলা, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ইরাক থেকে ড্রোন হামলা, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়।

হামলাটি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে চালানো হয়। ইরাক জানিয়েছে, হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মাইসান প্রদেশ থেকে পরিচালিত হয়েছিল। এ ঘটনায় দেশটির ওই অঞ্চলের অপারেশনস কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ পায় দেশটি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করে।

সৌদি আরব এর আগে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে দেশটির তেল স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করেছিল। সর্বশেষ হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াদ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা ঠেকাতে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করবে। একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করছে সৌদি আরব।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর মাইসান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অগ্রগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। পাশাপাশি তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে। এই প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।

হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত এক সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি 

আরও পড়ুন