EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭৬

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭৬

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চলতি সপ্তাহে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ফেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৬ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ৪৩ জন বেঁচে যাওয়ার সংখ্যা এখনও অপরিবর্তিত। তাদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনো ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ম্যানিলা থেকে পর্যটনকেন্দ্র কোরনের দিকে যাওয়ার পথে গন্তব্যের একদম কাছাকাছি স্থানে এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে আগুন লাগে। ওই সময় ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। ফেরির একটি কার্গো হোল্ডে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব।

বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপের কারণে মরদেহ উদ্ধারে বাধা তৈরি হয়। ফলে শুক্রবারের (১১ সেপ্টেম্বর) আগে উদ্ধারকারীরা ফেরিতে উঠতে পারেননি।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিলা বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুন লাগার কারণ নির্ধারণ করাই এখন অগ্রাধিকার। এদিকে ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে সহায়তা চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোরনের পর্যটন কর্মকর্তা ক্রিস্টিন অ্যাবলানা।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নিশ্চিত করতে পারেন যে এই ছবি বা এসব জিনিসপত্র তার স্বজনের, তাহলে তাকে ডিএনএ নমুনা দিতে বলা হবে।’

কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র জানান, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন। এরপর ধোঁয়া দেখা যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত। যারা ফেরি থেকে বের হতে পেরেছিলেন, তাদের লাইফজ্যাকেট পরারও সময় ছিল না।

উদ্ধারকারী একটি নৌকায় তুলে নিরাপদে নেওয়া এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর থেকে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনেছিলেন তিনি। বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত লোকজনের চাপে তিনি পদদলিতও হন।

২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং মার্চে এটি একটি পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা যাত্রী তালিকার অসঙ্গতি, কার্গো যথাযথভাবে বোঝাই করা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছে পালাওয়ান ডেইলি।

ফেরিটিতে ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আতিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন