যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড, প্রথমবার গ্যালন ৬ ডলার ছাড়াল
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গ্যালন প্রতি ডিজেলের গড় দাম মাইলফলক ছুঁয়েছে। প্রথমবারের মতো ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার পার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের তীব্র সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জ্বালানি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি।
জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দাম বিশ্বজুড়ে আবারও নতুন করে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। যা সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত পণ্যবাহী ট্রাক, রেল, জাহাজ এবং ভারি শিল্পের মূল জ্বালানি, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে সচল রাখে ডিজেল। এছাড়া কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির জন্য ডিজেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ডিজেলের দাম বাড়ার বড় প্রভাব পড়ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানির আকাশ ছোঁয়া দর সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার খরচ কমানোর বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর বিষয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্প নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে হয়ত জ্বালানি তেলের দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই মূলত এই সংকট তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ গভীরতর হওয়ার সাথে সাথে অপরিশোধিত তেল আবার ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭.৬৩ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০২.৪৮ ডলারে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র ৫ মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণ এবং যুদ্ধের পুরো সময়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ স্থবির হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের সাম্প্রতিক জ্বালানি রপ্তানি সীমাবদ্ধতাও সরবরাহ সংকট তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। মার্কিন শোধনাগারগুলো পুরো সক্ষমতায় কাজ করার পরও চাহিদার তুলনায় মজুদ বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আসন্ন শরৎ মৌসুমে শোধনাগারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হলে মজুদ পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে এবং অন্তত আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত এই অস্থিরতা ও উচ্চমূল্য বজায় থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স
-6aa3800e2f277.jpg)