EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তাইওয়ানের

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ এএম

চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তাইওয়ানের
অ অ

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের সম্মেলনে চীনের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছে তাইওয়ান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং অভিযোগ করেছেন, সম্মেলনের বিভিন্ন স্থানে চীনা কর্মকর্তারা গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত ছিলেন।

এবারের ফোরামের আয়োজক ছিল পালাউ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশটির সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাইওয়ানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক থাকা তিনটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের একটি পালাউ।

তাইওয়ানের উপস্থিতি নিয়ে সম্মেলনের আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল চীন। বেইজিংয়ের দাবি, তাইওয়ান কোনো দেশ নয়। এটি চীনের একটি প্রদেশ। তাইওয়ানের সরকার অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

চীনের আপত্তির মধ্যেই ফোরামে অংশ নেয় তাইওয়ান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং শুক্রবার তাইপেতে সাংবাদিকদের বলেন, চীনের আচরণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

লিন চীনের কূটনীতিকে ‘উলফ ওয়ারিয়র’ কূটনীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষ্য, চীনা কর্মকর্তাদের কঠোর ও হুমকিমূলক বক্তব্যের কারণে এ ধরনের কূটনীতির প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

চীন সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বলেছিল, এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে। এ ছাড়া গত মাসে পালাউকে ‘অনিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করেছিল বেইজিং।

লিন বলেন, চীন আয়োজক পালাউয়ের অবস্থানকে সম্মান করেনি। বরং নিজেকেই সম্মেলনের আয়োজকের মতো করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনস্থলে চীনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠান ও ভেন্যুতে চীনা লোকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে।

লিন বলেন, বিভিন্ন স্থানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পাঠানো সাদা পোশাকের কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ডকে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করেন।


তবে চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিনের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর বর্ণনা’ হিসেবে অভিহিত করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতেই লিন এসব মন্তব্য করেছেন। মন্ত্রণালয় তাঁর বক্তব্যকে ‘আত্মপ্রবঞ্চনামূলক রাজনৈতিক প্রদর্শনী’ বলেও মন্তব্য করেছে।

এর মধ্যেও ফোরামে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন লিন। তার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী আচরণ যত বাড়বে, তাইওয়ানের প্রতি সমর্থনও তত বাড়বে।

জুলাইয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তাইওয়ানের প্রতি আঞ্চলিক সমর্থন আরও জোরালো হতে পারে।

আরও পড়ুন