EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

নেপালে উদ্ধার অভিযানে সাহসী নারী ক্যাপ্টেন প্রিয়া, বাঁচিয়েছেন শত শত মানুষকে

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

নেপালে উদ্ধার অভিযানে সাহসী নারী ক্যাপ্টেন প্রিয়া, বাঁচিয়েছেন শত শত মানুষকে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯১৬ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বুধবারও দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় আটকে থাকা বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে কমে আসছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী।

গত ছয় দিনে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রিয়া। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্ধার অভিযানের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি, পাথর ও কাদার স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ভেসে যায় পুরো জনপদ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র।

হড়পা বানের পর দুর্গত উপত্যকার অনেক এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণের মতো জায়গাও নেই। কোথাও জায়গা পাওয়া গেলেও সেখানে অবতরণ নিরাপদ নয়। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়া।

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রিয়া বলেন, ‘এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগে দেখিনি।’

বন্যা ও ভূমিধসের পর দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে নেপালের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার কাজ শুরু করে। পরে বেসরকারি হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়। এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রিয়া।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা হেলিকপ্টার চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে।

দুর্গতদের উদ্ধারের পাশাপাশি অবতরণের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং একই সময়ে পাঁচ-ছয়টি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে তাঁকে। কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে এসব এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সবকিছু শেষ

রাসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রিয়া বলেন, সেখানকার দৃশ্য তাঁকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে, মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেছে।’

টানা হেলিকপ্টার উড্ডয়নে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের সন্ধান পেলেই নতুন শক্তি পান প্রিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার যখন কোথাও গিয়ে দেখি নিচে বহু মানুষ হাত নাড়াচ্ছে, আমি দ্বিগুণ এনার্জি পাই।’

উদ্ধার করা মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয় নেই, তোমরা বেঁচে গেছ।’

অচেনা মানুষকে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর কাছেও আবেগের হয়ে ওঠে বলে জানান প্রিয়া।

এই পরিস্থিতির জন্যই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে

প্রিয়া বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, কারণ আমরা একটানা হেলিকপ্টার ওড়াচ্ছি। তবে আমাদের এই পরিস্থিতির জন্যই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, তিমুরের মতো দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার ওই এলাকায় একসঙ্গে কাজ করছে। কখনো একই জায়গায় পাঁচ-ছয়টি হেলিকপ্টারকে অবতরণ করতে হচ্ছে। এ সময় প্রতিটি পাইলটকে রেডিওর মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়।

কাদায় ঢাকা মাটিতে সবসময় নিরাপদে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হয় না। কোনো কোনো এলাকায় কাদা এতটাই পুরু যে হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন বন্ধ করে অবতরণ করাও বিপজ্জনক। ফলে উদ্ধারকারীদের অনেক সময় ইঞ্জিন চালু রেখেই উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে।

যেভাবে পাইলট হলেন প্রিয়া

পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করার পর কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ শুরু করেন প্রিয়া অধিকারী। পরে ফিলিপাইনে গিয়ে পাইলটের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণাঙ্গ হেলিকপ্টার পাইলট হন। একই সঙ্গে তিনি নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে পরিচিতি পান।

এরপর হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রিয়া। এবার ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন