EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে নিউজিল্যান্ড

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে নিউজিল্যান্ড
অ অ

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করবে তাঁর দল।

প্রস্তাবিত আইনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

সোমবার এক বিবৃতিতে লাক্সন বলেন, নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করতে পারে এমন প্রযুক্তি এবং নানা ধরনের সামাজিক চাপের মুখে ফেলছে। এসব মোকাবিলার জন্য তারা এখনও প্রস্তুত নয়।

লাক্সনের মতে, এর প্রভাব শিশুদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষার ওপরও পড়ছে।

বয়স যাচাইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রস্তাবিত আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে।

এ জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে।

মূল লক্ষ্য হবে, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে সহজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে না পারে।

তবে বিলটি শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে পাস হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ লাক্সনের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি বিলটির বিরোধিতা করেছে।

জোটের শরিকের বিরোধিতা

নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির নেতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন এবং এর মাধ্যমে দেশকে যে দিকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।

পিটার্সের ভাষায়, এ ধরনের আইন শেষ পর্যন্ত দেশকে একটি ‘পিচ্ছিল ঢাল’-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর পরিণতি অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব মূলত বাবা-মায়ের ওপর থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণের চেষ্টা

নিউজিল্যান্ডের এই উদ্যোগের পেছনে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপও রয়েছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে।

এর মাধ্যমে দেশটি এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আইনে টিকটক, অ্যালফাবেটের ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন পিটার্স। তাঁর মতে, দেশটির এই আইন ‘চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের চেয়ে অভিভাবকদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।

সমালোচনা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে আছেন লাক্সন। তিনি স্বীকার করেছেন, নতুন আইন কার্যকর হলেও ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব হবে না।

এক অনুষ্ঠানে লাক্সন বলেন, কাজটি সহজ হবে না। ব্যবস্থাটিও নিখুঁত হবে না। কিছু শিশু সব সময়ই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজবে।

তবে বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ যে চেষ্টা না করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লাক্সনের সরকার মনে করছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, বয়স যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত বাস্তবতা ও অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর এর বিস্তারিত বিধান ও বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। তবে জোটের শরিক দলের বিরোধিতার কারণে এটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন