EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুকে রক্ষায় আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

নেতানিয়াহুকে রক্ষায় আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ
অ অ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট ও এক জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সর্বশেষ এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য নয়।

মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, আইসিসির প্রেসিডেন্ট জাপানি বিচারক তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত বছর আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন, তার আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো যেসব দেশ আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি, সেসব দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে ওই দুই কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইসিসি। এক বিবৃতিতে আদালতটি বলেছে, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আইনের শাসনকে দুর্বল করে।

আইসিসি আরও বলেছে, আইন প্রয়োগের কারণে বিচারিক কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা যখন হুমকির মুখে পড়েন, তখন আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলাই ঝুঁকিতে পড়ে।

নিষেধাজ্ঞার শিকার আবদুলায়ে সেয়ে আইসিসির সেই কৌঁসুলি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য, যারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলেন। তাঁকে আইসিসির বিচারক পদে নির্বাচনের জন্যও মনোনীত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইসিসির স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডসও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের অসম্মতি রয়েছে। তিনি আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেকে নেদারল্যান্ডসে দেশটির ধারাবাহিক সমর্থন নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বেরেন্ডসেন বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোকে স্বাধীনভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

আইসিসির প্রধান বিচারক তোমোকো আকানে গত ডিসেম্বরেই সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সব ধরনের পরিস্থিতি ও মামলায় আদালতের কার্যক্রম দ্রুত স্থবির করে দিতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের অস্তিত্বও হুমকিতে পড়তে পারে।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আইসিসির একটি পুরোনো তদন্ত এবং নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে গত বছর আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা, কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।

এ ছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গতকাল একটি সাধারণ লাইসেন্স দিয়েছে। এর আওতায় তোমোকো আকানে ও আবদুলায়ে সেয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন গুটিয়ে নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহুকে রক্ষার চেষ্টা

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আইসিসির তিন বিচারক। তাঁরা মার্কিন পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দুটি পৃথক মামলায় বলেছে, বিশ্বজুড়ে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে কাজ করা সংস্থাগুলোর সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী যুক্তরাষ্ট্রের এ তৎপরতা।

মার্কো রুবিও গত মাসে বলেছিলেন, আইসিসির কার্যক্রম ব্যাহত করতে মার্কিন প্রশাসনের চেষ্টা আরও জোরদার হবে। অন্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে বের করে আনতেও কূটনৈতিক প্রচারণা চালানো হবে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে।

রুবিওর দাবি, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মাদক বহনের অভিযোগে নৌযানে অভিযান পরিচালনাকারী দল এবং মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য আইসিসি বড় হুমকি।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রচারণার উদ্দেশ্য তাঁকে বিচার থেকে রক্ষা করা নয়। বরং নেতানিয়াহু ও অন্যদের রক্ষা করাই এর লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য ছিল না। কোনো সদস্যরাষ্ট্র নিজের দেশে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের বিচার করতে না পারলে বা না চাইলে আইসিসি সেখানে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

তবে আইসিসির সংবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সদস্য নয় এমন দেশের কোনো নাগরিক নৃশংস অপরাধ করলেও তাঁর বিচার করার ক্ষমতা এ আদালতের রয়েছে।

আরও পড়ুন