মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। নতুন এ পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের হুমকি কমাতে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরান দায়ী।
মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালায় ইরান। দেশ দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। অন্যদিকে কাতার সাময়িকভাবে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বুধবারের মার্কিন অভিযান মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বড় পরিসরে পরিচালিত হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে নতুন কোনো চুক্তি হলেও তা টিকবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন না এবং পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে।
নতুন সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এ অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন হামলা দেশের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হরমুজ প্রণালি থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। হামলার শিকার হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস, চাবাহার ও কোনারাক। চাবাহারের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় এক দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আক্কালা শহরের কাছে একটি রেলসেতুতেও হামলার অভিযোগ করেছে দেশটি।
মার্কিন হামলার আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। এদিকে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতির জবাবে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি পারমাণবিক নীতিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
[সূত্র: রয়টার্স]

