ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩ হাজার, এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। তবে অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম ৭২ ঘণ্টা। যদিও চলতি সপ্তাহেও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রশিক্ষিত কুকুরকেও এ সময় সম্মাননা দেওয়া হয়।
ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও তাদের প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি। আবার অনেকেই সবকিছু হারিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের কার্যক্রম সমাপ্ত করার প্রস্তুতি নেয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারী দল জানায়, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় তারা অভিযান শেষ করছে। একইভাবে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার উদ্ধারকারী দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে।
এদিকে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তৎপরতা ছিল ধীরগতির। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।
তবে সরকারের পক্ষে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ দাবি করেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে দ্রুত হাজার হাজার সেনাসদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল।

এদিকে লা গুয়াইরায় শনিবার ভারী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বহু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে।
স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, “আমরা এখনও মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত কঠিন। আজ দুটি মরদেহ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালগুলো রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।