জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেলেন। আদালত ট্রাম্পের এ-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ বাতিল করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, নাগরিকত্ব হলো ‘সব অধিকার পাওয়ার অধিকার’। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর প্রণেতারা ‘এই ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির’ জন্য নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আজও সেই অঙ্গীকার রক্ষা করছি।’
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬০ বছর ধরে প্রচলিত একটি সাংবিধানিক নীতি। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত মানুষের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর থাকলে অনথিভুক্ত অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না। এতে অনথিভুক্ত বাসিন্দার সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতির পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শত বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতে পরিবর্তন আনার এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল। তবে শুরু থেকেই এই আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, বর্তমান ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তন প্রয়োজন।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত একটি অধিকার, যা শুধু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় আইনি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেই নয়, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। রক্ষণশীলরা মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই অধিকার সীমিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসতো।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখো মানুষের নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামো বহাল থাকছে। সূত্র: সিএনএন