যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবাননের কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি ‘কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক)’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। খবর বিবিসির।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এ চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগঠনটি যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধের অঙ্গীকার রয়েছে।
চুক্তিতে ইসরায়েল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে এবং নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি বসবাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, বন্দি বিনিময় এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো দেশই বঞ্চিত হবে না।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) ধীরে ধীরে পুরো দেশের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। এর আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে লেবানন। বাস্তবায়ন তদারকিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দলও গঠন করা হবে।
কূটনৈতিকভাবে এটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে লেবাননের সেনাবাহিনীকে দুটি এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে—একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি নদীর উত্তরে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে দেশটির ৩৬ জন সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।