বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন সিটিক টাওয়ারে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট বিমান ভবনটির ওপরের অংশে আঘাত হানার পর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত খালি করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। এছাড়া বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন, কোথা থেকে এটি উড্ডয়ন করেছিল কিংবা দুর্ঘটনার কারণ কী—এসব বিষয়ও এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৫২৮ মিটার উঁচু সিটিক টাওয়ারের ওপরের একটি অংশে বিমানটি আঘাত হানে। ঘটনার পর ভবনটিতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি ভিত্তিতে সবাইকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে ভবন ছাড়ার সময় তিনি নিজের ব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র নেওয়ারও সুযোগ পাননি।
বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। ভবনের আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
অনলাইনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর বি-১২পিপি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা মডেলের দুই আসনের একটি হালকা বিমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশপথে পর্যটনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে হালকা বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অনুমোদন প্রয়োজন। সম্প্রতি শহরটিতে বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
[সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট]