যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ, কার লাভ বেশি?
ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যুতে থাকছে নতুন সমীকরণ।
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সমালোচনার পর বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসন চুক্তির বিস্তারিত নথি প্রকাশ করে। এতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে করা এই সমঝোতা স্মারককে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হবে।
সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবিলম্বে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলছে
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করবে।
ইরান ৩০ দিনের মধ্যে মাইন অপসারণসহ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথাও বলা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ
সমঝোতায় ইরানের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি। চূড়ান্ত চুক্তি হলে ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতেও সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কিছু তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শর্ত
ইরান আবারও জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। দুই দেশ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।
কার লাভ বেশি?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতায় ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাচ্ছে—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, তেল রপ্তানির সুযোগ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জন হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা।
তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতার বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে। [সূত্র: সিএনএন]