ইরান চুক্তির ফলে যে কারণে বেকায়দায় নেতানিয়াহু
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা নীতির ভিত্তিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ তথ্য দেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
এই চুক্তির ঘোষণার পরেই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন নিজেকে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুর মূল সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক এই চুক্তি তাকে কার্যত পাশ কাটিয়ে করা হয়েছে।
বিশেষ করে লেবাননের বৈরুতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা এবং নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তকে ‘বিচারবুদ্ধিহীন’ বলায় ইসরায়েলি রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ঘটনা তার ভাবমূর্তিকে আরও দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু এখন দুইটি কঠিন পথের সামনে দাঁড়িয়ে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত অথবা ইসরায়েলি স্বার্থে আপস। একইভাবে তার জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থী অংশও চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “এই চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, কারণ এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।”
অন্যদিকে, সাবেক মোসাদ কর্মকর্তা সিমা শাইন বলেন, এই চুক্তির ফলে লেবানন ইস্যুতে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতিও নেতানিয়াহুর জন্য চাপ বাড়িয়েছে। হামাস এখনো গাজার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখায় এবং দীর্ঘ সংঘাতে সামরিক ক্লান্তি তৈরি হওয়ায় তার নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যে কঠোর নীতি তিনি নিয়েছিলেন, তা এখন উল্টো ফল দিচ্ছে। ইরান ও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার পরিবর্তে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ইসরায়েলের এই পরিস্থিতি তাদের ইরান নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং নেতানিয়াহুর জন্য এক গভীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে তার সামনে রয়েছে কঠিন সিদ্ধান্ত, মিত্রের সঙ্গে সংঘাত নাকি রাজনৈতিক আপস। [সূত্র: বিবিসি]