ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার (১৫ জুন) মহাসচিবের মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিতে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গুতেরেস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে একটি চূড়ান্ত ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে আরও জোরালো প্রচেষ্টা চালাবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও সর্বাত্মক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে ধারাবাহিক হামলার পর এ সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ সপ্তাহেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবাননের চলমান সংকট বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতারই অংশ। গত মার্চে ইরানে হামলার পরপরই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সূত্র: জাতিসংঘ