ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০০ এএম
ইরান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মে মাসে দেশটিতে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৩.৮ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) জানিয়েছে, মূলত জ্বালানি খরচ ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দ্রুত বেড়েছে। এটি টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশটিতে এমন উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা গিয়েছিল। তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানি বিল গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি। বিশেষ করে পেট্রোলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় মূল্য ৪.১৫ ডলার। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ২.৯৮ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পেট্রলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে গড়ে প্রতি মার্কিন পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ ডলার, যা সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সমান।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে, যা অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। [সূত্র: তেহরান টাইমস]