EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

সংঘাতের আবহেই ৫ নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা ইরানের

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৭ এএম

সংঘাতের আবহেই ৫ নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা ইরানের
অ অ

আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে উপকূলীয় পাঁচটি এলাকায় নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইরান। সোমবার (৮ জুন) দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, দেশটির সংসদের জ্বালানি ও নির্মাণবিষয়ক কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোহাম্মদ ইসলামি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে গৃহীত ইরানের পারমাণবিক শিল্পের সমন্বিত কৌশলগত নথির আওতায় এই নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, কৌশলগত নথির ওপর ভিত্তি করে দেশের সার্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুতের অংশীদারত্ব বাড়াতে উপকূলের পাঁচটি কৌশলগত স্থানে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলোর প্রাথমিক কাজ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।

বৈঠকে ইরানের একমাত্র সক্রিয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘বুশেহর’ এর সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, কেন্দ্রটি সম্প্রতি ৮০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর ফলে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল অথবা ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে বর্তমানে বুশেহর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এটিকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম অবকাঠামোগত উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ইরানের দক্ষিণ উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিই এখন পর্যন্ত দেশটির জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের একমাত্র উৎস।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও এর কার্যক্রম বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

গত রোববার লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলও ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলা চালায়।

তবে সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে ইসরায়েলে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এর ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, তেল আবিবও ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে, তবে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান এখনই থামছে না।

আরও পড়ুন