পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক বহিষ্কৃত
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি আছে, এই অভিযোগের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি
বিবিসি বাংলা
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০২:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত দুইজন বিধায়ককে দল বহিষ্কার করেছে।
নির্বাচনের পরে বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা হবেন, তা ঠিক করতে মমতা ব্যানার্জীর বাড়িতে যে বিধায়কদের বৈঠক হয়েছিল, সেখানে যে প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়, তাতে বিধায়কদের সইতে অসঙ্গতি আছে, এই অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সোমবার বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা।
ওই দুই বিধায়কই যে সেদিনের বৈঠকের ব্যপারে অভিযোগ করেছিলেন, এই কথা সোমবার প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি আছে, এই অভিযোগের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি।
অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নাম বেছে নেওয়ার প্রস্তাবে বিধায়কদের যে স্বাক্ষর রয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটা ইংরেজির ব্লক লেটারে।
আরো অভিযোগ, বিধায়কদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা না কি সই-ই করেননি। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মামলা সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ও্ই তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীকেও সোমবার ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। তবে ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে অবশ্য সোমবার অভিষেক ব্যানার্জী সিআইডি-র দফতরে যাননি।
সই-সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ ওঠে এর নেপথ্যে বিজেপি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সোমবার জানান এই অভিযোগ বিজেপি তোলেনি, তুলেছেন ‘তৃণমূলের দু’জন বিধায়ক মাননীয় ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা। স্পিকারের কাছে তারা লিখিত অভিযোগে জানান ৬ মে, কোনো রেজোলিউশানই হয়নি। ওই রেজোলিউশান ফ্যাব্রিকেটেড, ম্যানুফ্যাকচারড।’
অভিষেক ব্যানার্জীর নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কেউ অসুস্থ থাকলে টাইম দেবেন কি না সেটা আইও বা অর্গানাইজেশন ঠিক করবে। সেটা আমার ডিপার্টমেন্ট নয়। সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে দেখানো হচ্ছে তাতে মনে হতে পারে প্রতিহিংসা… কিন্তু আমরা কোনো প্রতিহিংসা নিতে চাই না। অভিযোগ করেছে আপনাদের দলের দুই বিধায়ক।’