সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষ হিসেবে হজ করে নজির গড়লেন বৃদ্ধা
মারসিয়াহর ভাষায়, আমি ঐতিহ্যবাহী জাউ বিক্রি করে কৌটায় অল্প অল্প করে টাকা জমাতাম
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ইন্দোনেশিয়ার ১০৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা এমবাহ মারসিয়াহ। পেশায় একজন সাধারণ জাউ (পোরিজ) বিক্রেতা এই নারী ২০২৬ সালের পবিত্র হজে অংশ নেওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ হাজি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
চলতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে যে ২ লাখ ২১ হাজার নাগরিক হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন, মারসিয়াহ তাদেরই একজন। পূর্ব জাভার কেদিরি এলাকার বাসিন্দা মারসিয়াহ তার এই দীর্ঘ জীবনের লালিত স্বপ্ন পূরণের গল্প শুনিয়েছেন হজ মিডিয়া সেন্টারকে।
মারসিয়াহ ২০২১ সালে প্রথম হজের জন্য নিবন্ধন করেন। বহু বছর ধরে সঞ্চয় করে সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করেন।
মারসিয়াহ বলেন, আমি ঐতিহ্যবাহী পোরিজ (জাউ) বিক্রি করি। অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছি। একটি কৌটায় টাকা রেখে সঞ্চয় করতাম। কোথাও ঘাটতি হলে আমার ছেলে সাহায্য করত।
এভাবে বছরের পর বছর সামান্য সামান্য করে টাকা জমিয়ে তিনি অবশেষে হজের জন্য নিবন্ধনের মতো অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। শুরুতে তিনি তার এই স্বপ্নের কথা কাউকে বলেননি।
তিনি বলেন, আমি কাউকেই বলিনি যে আমি হজের জন্য টাকা জমাচ্ছি।
এমনকি তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও বিষয়টি জানতেন না। তবে সঞ্চয়ের পরিমাণ যথেষ্ট হলে তিনি আশপাশের মানুষদের জানাতে শুরু করেন।
১৯২১ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণকারী মারসিয়াহ এখনও লাঠির সাহায্যে ধীরে ধীরে হাঁটতে পারেন। তবে হজের অধিকাংশ সময় তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেছেন। তিনি তার ৬৭ বছর বয়সী মেয়ে মুইদাহকে সঙ্গে নিয়ে গত ২২ মে সকালে মক্কায় পৌঁছান।
ইন্দোনেশিয়ার ১১২তম সুরাবায়া এমবারকেশন গ্রুপের প্রধান আবিসওয়াতুন নাধিরোহ হজের দ্বিতীয় দিনে জানিয়েছিলেন, মারসিয়াহ সুস্থ আছেন এবং হজের সব কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।