EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের পর চীনে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, আলোচনা যেসব বিষয়ে

বৈঠকে পুতিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে “প্রিয় বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ট্রাম্পের পর চীনে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, আলোচনা যেসব বিষয়ে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

অ অ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই বেইজিং সফরে গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে বহনকারী বিমানটি বেইজিংয়ে পৌঁছালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাকে স্বাগত জানান। চলতি বছরে এটিই পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর।

বুধবার (২০ মে) সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন পুতিন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে পুতিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে “প্রিয় বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ সময় তিনি বলেন, মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে “অভূতপূর্ব উচ্চতায়” পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে শি জিনপিং বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে চীন ও রাশিয়ার একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত। জবাবে পুতিন বলেন, বেইজিংয়ের জন্য মস্কো একটি “নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী” হিসেবেই থাকবে। একই সঙ্গে আগামী বছর চীনা প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

আলোচনা কী নিয়ে?

দুই নেতার পরবর্তী বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার “গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়” নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পুতিনের এ সফরের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং “বিশ্বে বৃহত্তর স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করা”।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বেইজিং এখনো মস্কোর অন্যতম প্রধান মিত্র এবং রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে এবারের বৈঠকেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ পাইপলাইনের নির্মাণ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করবে রাশিয়া। এতে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর সংকটও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর এবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টির সমাধানের পথ খোঁজা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চীনে জ্বালানি রপ্তানির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে রাশিয়া।

যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে চীন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনাও করেছে বেইজিং। প্রেসিডেন্ট শি এসব নিষেধাজ্ঞাকে “অবৈধ ও অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেছেন।

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পুতিনের আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক চা-আড্ডাও রয়েছে। সফর শেষে দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। [সূত্র: বিবিসি]

আরও পড়ুন