EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পর ‘অটুট সম্পর্কের’ বার্তা দিতে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পর ‘অটুট সম্পর্কের’ বার্তা দিতে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন
অ অ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কয়েকদিন পর ‘অটুট সম্পর্কের’ বার্তা দিতে মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুতিনের এই সফর নিশ্চিত করা হয়। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর ছিল এটি, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্থিতিশীল করা।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন ও শি বৈঠকে রাশিয়া-চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতবিনিময় করবেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রাশিয়ার জন্য চীন এখন অন্যতম প্রধান মিত্র। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বেইজিং হওয়ায় মস্কো অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

বৈঠকে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গোলিয়ার মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী মস্কো।

সফরের আগে দুই নেতা রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করেন। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ‘রাশিয়া ও চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করেন।

চীনা জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক এখন “অভূতপূর্ব উচ্চতায়” পৌঁছেছে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, “রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে জোট গড়ছি না; বরং শান্তি ও সার্বজনীন সমৃদ্ধি চাই।”

বৈঠক শেষে দুই নেতা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফরের পরও চীন-রাশিয়া সম্পর্ক অটুট রয়েছে—এই বার্তাই বিশ্বকে দিতে চাইছেন পুতিন। যদিও ট্রাম্পের সফরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না থাকলেও, ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের প্যাট্রিসিয়া কিমের ভাষায়, “শি-পুতিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন প্রদর্শনমূলক আশ্বাসের প্রয়োজন পড়ে না।”

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চাইলেও চীন কখনোই রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানায়নি। বরং তারা নিজেদের নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে শির সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়েও পুতিনকে অবহিত করতে পারেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে ওই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি না আসায় মস্কো আশ্বস্ত হয়েছে যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতায় যায়নি যা রাশিয়ার স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এছাড়া জ্বালানি সহযোগিতাও এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় চীন রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল ও গ্যাস আমদানিতে আগ্রহী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: এএফপি

আরও পড়ুন