পশ্চিমবঙ্গের ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ নেতা গর্গ চ্যাটার্জী গ্রেফতার, চলছে বিতর্ক
বিজেপি নেতা ও সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক সজল ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন গর্গ চ্যাটার্জিকে গ্রেফতারের সময় ২৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে
বিবিসি বাংলা
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’র প্রধান গর্গ চ্যাটার্জীকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করার পরে তার পক্ষে, বিপক্ষে নানা মত উঠে আসছে, সামাজিক মাধ্যমে বেঁধেছে বিতর্ক। নির্বাচনের ভোটযন্ত্র বা ইভিএম নিয়ে তার একটি পোস্টের কারণে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিল।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া মিটতেই একের পর এক গ্রেফতারের খবর জানা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সাবেক দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পরে এবার গ্রেফতার হলেন ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’- এর নেতা গর্গ চ্যাটার্জী।
জানা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ইভিএম বা ভোটগ্রহণ যন্ত্র নিয়ে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে গর্গ চ্যাটার্জীকে। ১২ মে মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল।
একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলা পক্ষ ও গর্গ চ্যাটার্জীর হ্যান্ডেলগুলিও। আজ তাকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়েছে।
‘বাংলা পক্ষ’ সংগঠনের সুত্রে জানা গেছে যে ওই সংগঠনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তদন্তকারীদের তরফে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে গর্গ চ্যাটার্জী মন্তব্য করেছিলেন, ‘আগের রাতে ইভিএমগুলি সব দিক দেখে শুনে সিল করে রাখার পরেও ভোট গণনার দিন কেন ইভিএমগুলোয় ত্রুটি দেখা দিচ্ছে?’
এ ছাড়াও অন্য রাজ্যের যেসব বাসিন্দারা পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন এবং ভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৮ সালে বাংলা পক্ষ নামের ওই সংগঠন তৈরি করেন গর্গ চ্যাটার্জী।
‘ভারতীয় বাঙালি জাতীয়তাবাদী’ বলে নিজেদের দাবি করা এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমবঙ্গে হিন্দি ভাষার বিরোধিতা ও বাংলাকে সরকারি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া।
এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাতেও বাংলায় পরিষেবা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আওয়াজ তুলেছিল এই সংগঠনটি।
তবে স্বঘোষিতভাবে ‘অরাজনৈতিক’ এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার একাধিক অভিযোগ করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল ও বর্তমান শাসকদল বিজেপি।
হিন্দি ভাষার বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলেও অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা ও কর্মীরা। এমনকি তিনি তার এলাকার আসন ভবানীপুরে তিনি যখন ভোট দিতে যান, তাকে ঘিরে স্লোগান তোলার অভিযোগ করেছিলেন গর্গ চ্যাটার্জী।
কী বলছে কলকাতা পুলিশ?
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে কলকাতা পুলিশ।
ওই সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘তিনি একাধিক পোস্ট করে ইভিএম-এ কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। তার এই সব পোস্টের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।’
এই বিষয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।
ওই বৈঠক থেকে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, এর আগেও দুবার গর্গ চ্যাটার্জিকে তলব করা হয়েছিল কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তারপর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে পুলিশ।
অজয় নন্দ আরও জানান, ‘উনি সোশ্যাল মিডিয়াতে একাধিকবার বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। ওই মন্তব্যগুলিতে বৈষম্যের আঁচ পাওয়া যায়।’
কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, মূলত ইভিএম সংক্রান্ত মন্তব্য করে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
কলকাতার ময়দান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তবে এই গ্রেফতারির পরে হইচই শুরু হয়েছে। যেখানে এক পক্ষ এই গ্রেফতারকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে বহু মানুষ ও সংগঠন এই গ্রেফতারকে অনৈতিক ও বাকস্বাধীনতার বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন।