যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন-ইসরায়েল বৈঠক ‘অর্থহীন’: হিজবুল্লাহ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির নেতা নাঈম কাসেম ইসরায়েল লেবাননে জোরদার হামলা চালানোর সময় এ ধরনের উদ্যোগকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
গতকাল সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নাঈম কাসেম নির্ধারিত বৈঠকে অংশ না নিয়ে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী অবস্থান’ নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
কাসেম বলেন, এই আলোচনা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা—যা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার উল্লেখ করেছেন। তাহলে এমন আলোচনায় কীভাবে যাওয়া সম্ভব, যার উদ্দেশ্য আগেই নির্ধারিত?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থামব না, থেমে যাব না বা আত্মসমর্পণ করব না। বরং পরিস্থিতির জবাব দেবে যুদ্ধক্ষেত্রই।’
মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করে। যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল, তারপরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, ২ মার্চের হামলাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া।
এরপর থেকে ইসরায়েলের হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান মিলিয়ে অন্তত ২ হাজার ৫৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৫ শিশু ও ৮৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
লেবানন সরকার বলছে, তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। তবে ইসরায়েল সরাসরি শান্তি আলোচনার কথা বলছে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করাকে প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।
শনিবার নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা হিজবুল্লাহর অস্ত্র ভেঙে দিতে চাই এবং এমন একটি শান্তি চুক্তি চাই, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্থায়ী হবে।’
কাসেম বলেন, প্রস্তাবিত এই আলোচনায় যাওয়ার জন্য লেবাননের ঐকমত্য প্রয়োজন এবং এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘একতরফা ছাড়’।
এর আগে শুক্রবার ও শনিবার রাজধানী বৈরুতে শত শত মানুষ এই বৈঠকের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম চলমান হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।
সোমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর বিনতে জবেইল পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলার দাবি অব্যাহত রেখেছে।
কাসেম বলেন, ইসরায়েল লেবাননের যেকোনো এলাকায় প্রবেশ করলেও উত্তর ইসরায়েলের কোনো অঞ্চল নিরাপদ থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধের শুরুতে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করে বৈরুত সরকার তাদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে বলেছে তারা লেবাননের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায়, যাতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা যায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর পক্ষে তা সম্ভব নয়।’
সূত্র: বিবিসি