এপস্টিন ফাইল ইস্যুতে নীরবতা ভাঙলেন মেলানিয়া, নতুন করে আলোচনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘আমি এপস্টিনের লালসার শিকার নই।’
তার স্বামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু মেলানিয়া ট্রাম্পের এই মন্তব্যে এপস্টিন প্রসঙ্গটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এই যৌন অপরাধীই ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, অনলাইনে ছড়ানো এমন গুজব তিনি অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি পার্টিতে তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। এর দুই বছর পর, ট্রাম্পের সঙ্গে অংশ নেওয়া আরেকটি অনুষ্ঠানে তিনি এপস্টিনের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। মেলানিয়া ট্রাম্প কংগ্রেসকে জেফ্রি এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন। যেখানে যাতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারেন।
হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া মেলানিয়ার এই ব্যতিক্রমী বক্তব্য আবারও জেফ্রি এপস্টিন মামলাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিতর্কের মধ্যে ফেলেছে। এমনকি তার কিছু সমর্থকও মনে করেন, সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টি তার প্রশাসন সঠিকভাবে সামলাতে পারেনি।
মেলানিয়া ট্রাম্প আরো বলেন, ‘কলঙ্কিত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করে যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, তার আজই অবসান ঘটাতে হবে।’
তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা অপবাদের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার নই।’ তার ভাষায়, তাকে নিয়ে যে অভিযোগ বা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন। তিনি বিচার বিভাগের এপস্টিন সম্পর্কিত লাখ লাখ নথি ধীরে ধীরে প্রকাশ করার কারণে ট্রাম্পের অনুগতদের রোষানলে পড়েছিলেন।
একসময়ের এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০০ সালের শুরুর দিকে এপস্টিনের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। সরকারি নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব বিখ্যাত ব্যক্তির নাম এসেছে তাদের তালিকায় ট্রাম্পের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিষয়টি শিরোনাম থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছিল। তবে এখন আবার বিষয়টি সামনে আনলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তবে তিনি কেন এই সময়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
মেলানিয়ার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান রয়টার্সকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এখন মুখ খুলেছেন কারণ, আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এই মিথ্যাচার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ ফার্স্ট লেডির একজন মুখপাত্র বলেছেন, বৃহস্পতিবারের বিবৃতির বিষয়ে ট্রাম্পের সহযোগীদের তার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
ফার্স্ট লেডিরা মাঝে মাঝে রাজনৈতিক বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেও মেলানিয়া ট্রাম্পের এই বিবৃতিটি ছিল ব্যতিক্রম।
ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সাবেক প্রেস সচিব মাইকেল লারোসা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ফার্স্ট লেডি এভাবে জনসমক্ষে কোনো বিতর্কের জবাব দেননি এবং হোয়াইট হাউস থেকে তো কখনোই দেননি, তাই এর জন্য সাহসের প্রয়োজন ছিল।’
ফার্স্ট লেডি বলেছেন, এপস্টিন বা তার সাজাপ্রাপ্ত সহযোগী ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার কখনো কোনো সম্পর্ক ছিল না। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার কেবলই মাঝে মাঝে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হতো।
মেলানিয়া ট্রাম্প আরো বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিয়ের পাঁচ বছর আগে ২০০০ সালে একটি অনুষ্ঠানে এপস্টিনের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। সেই সময়ে এপস্টিনের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না।’
জেফ্রি এপস্টিন২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় নাবালিকাদের পতিতাবৃত্তিতে জড়ানোর দুটি গুরুতর অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। পরে ২০১৯ সালে তিনি নাবালিকাদের পাচারের ফেডারেল অভিযোগের মুখোমুখি হন। ওই সময় কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে রায় দেওয়া হয়েছিল।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আমার কখনোই বন্ধুত্ব ছিল না। ডোনাল্ড এবং আমি মাঝে মাঝে এমন কিছু পার্টিতে আমন্ত্রিত হতাম, যেখানে এপস্টাইনও থাকতেন। কারণ নিউইয়র্ক সিটি ও পাম বিচের সামাজিক বৃত্তে এমনটা হওয়া সাধারণ ব্যাপার।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরেই এপস্টিন প্রসঙ্গের আলোচনা থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেহেতু কিছুই সামনে আসেনি, আমার মনে হয় দেশের এখন অন্য বিষয় নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।’