EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

স্বর্ণ খাতকে বৈধ ও জবাবদিহিমূলক শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

স্বর্ণ খাতকে বৈধ ও জবাবদিহিমূলক শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক অবস্থা থেকে বের করে একটি বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া ‘স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬’-এর ওপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের আগামী রবিবারের মধ্যে লিখিত মতামত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়া নীতিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। এতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যথাযথ নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে স্বর্ণ খাতটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এ অবস্থার জন্য শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বর্ণ খাতকে দেশের অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসার মতো একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায় এবং স্বর্ণের মজুদ ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর পরিশোধ করবেন এবং সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা দেবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের ক্রয়, বিক্রয় ও মজুদের প্রতিটি ধাপ নিবন্ধিত ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। কোথা থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করা হয়েছে, কী পরিমাণ মজুদ রয়েছে এবং কতটুকু বিক্রি হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

স্বর্ণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণ মূল্য সংরক্ষণের অন্যতম স্বীকৃত মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণও সংরক্ষণ করে। তবে চোরাচালান রোধে দেশের বাজারদর ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান সৃষ্টি না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধিত নীতিমালায় শুধু স্বর্ণ আমদানিই নয়, দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তা ও কারিগরেরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হবেন।

তিনি জানান, নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ স্বর্ণালংকার রপ্তানিকারক কয়েকটি দেশের নীতি, শুল্ক কাঠামো, আমদানি ও তদারকি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় চিহ্নিত করে লিখিত মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনে আরও আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

আরও পড়ুন