logo
Update : 2018-07-12 15:22:31
গণজাগরণ মঞ্চের লাকীর বাসা থেকে কোটাবিরোধী জবি ছাত্র সুহেলকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

গণজাগরণ মঞ্চের লাকীর বাসা থেকে কোটাবিরোধী জবি ছাত্র সুহেলকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

  সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সুহেলকে  ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে গণজাগরণ মঞ্চের নেত্রী লাকী আক্তার অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে লাকী আক্তার তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এমন তথ্য দেন। লাকী তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমার বাসায় বৃহস্পতিবার ভোররাত সোয়া ৪টা নাগাদ ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। ৮-১০ জনের একটা দল আসেন। শুরুতে তারা বেশ উত্তেজিত ছিলেন। আমি জানতে চাইলাম এত রাতে কোন অভিযোগে আমার বাসায় তল্লাশি করবেন তারা। তর্কা-তর্কির এক পর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। আমি বললাম আপনারা সকালে আসেন। অনেকক্ষণ বাক-বিতণ্ডার পর অবশেষে তারা বাড়িওয়ালা আঙ্কেলকে নিয়ে আসলে সাড়ে চারটার দিকে আমি দরজা খুলি।’ লাকী লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে বাসার কম্পিউটারের হিস্ট্রি চেক করেন। এছাড়া সুহেল যে রুমে ছিল সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তারা পাননি।’ লাকী তার স্ট্যাটাসে আরও লেখেন,  ‘সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী। তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বাসায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার আছে কিনা জানতে চান। বাসায় সেরকম কোনো কিছু না থাকায় আমি তাদের দেখাতে পারিনি। তবে সেজন্য তারা বাড়তি কোনো তল্লাশিও করেননি।’ এ ব্যাপারে পল্টন মডেল থানার ডিউটি অফিসার সেলিনা হোসেন বলেন, পল্টন থানায় এই ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমাদের কাছে এই রকম কোন তথ্য নেই।   লাকী তার স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা আমার বাসায় অবস্থানকালে সুহেলকে আলাদারুমে হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় আমাদের সব ফোনগুলো তারা জব্দ করে রাখেন। আমার ফোনও তারা চেক করেন। যদিও ঘরে প্রবেশ করার পর আমাদের কারও সাথে উত্তেজিত আচরণ করেননি তারা।’ ‘যাওয়ার আগে সুহেল আমাকে অনুরোধ করেছে তার মাকে যেন কিছু না জানানো হয়। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। সম্প্রতি কোটা আন্দোলনে জড়িত থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলারও শিকার হয় ও। এরপর এ ঘটনায় তার মা আরও ভেঙে পড়তে পারেন।’ ‘তবে কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত থাকলে মানুষকে এভাবে আতঙ্ক নিয়ে রাত কাটাতে হবে?’ লেখেন লাকী আক্তার। এর আগে গত ২৩ মে বিকালে পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছিলেন জবি ইংরেজি বিভাগের ১০ ব্যাচের ছাত্র সুহেল। সুহেল তখন জানিয়েছিলেন, কোটা আন্দোলনের জন্য দ্বিতীয়বার তাকে মার খেতে হয়েছে। প্রথমবার চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মারধরে ঠোঁটের বাইরে ৯টা ও ভেতরেও দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন আহমেদকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন।   গত ২৩ মে মারধরের শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল সুহেলকে   এর আগে গত ৩ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনে যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে নিখোঁজ বলে দাবি করেছিলেন তার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম। যদিও এর পর পরই শাহবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং গত ১০ জুলাই ফারুক হোসেনসহ তিনজনকে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- জসিম উদ্দিন ও মশিউর রহমান। এছাড়া এর আগে গত ২ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগপ্রযু্ক্তি আইনের মামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। পরে ৮ জুলাই আবার পৃথক দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।   আরও পড়ুন:   এবার কোটাবিরোধী ফারুক জসিম ও মশিউর দুদিনের রিমান্ডে   পৃথক দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে রাশেদ   কোটাবিরোধী ‘নিখোঁজ’ নেতা ফারুককে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ   কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা ফারুক ‘নিখোঁজ’