logo
Update : 2018-07-09 20:15:11
‘প্রিন্স অব কলকাতা’ সৌরভ গাঙ্গুলী
আবদুল্লাহ আল মোহন

‘প্রিন্স অব কলকাতা’ সৌরভ গাঙ্গুলী

১. সৌরভ চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়, ভারতের জাতীয় ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক। যিনি সৌরভ গাঙ্গুলী নামে সমাধিক পরিচিত। তবে তাঁর ডাক নাম ‘মহারাজ’। বাঁহাতি এই ক্রিকেটার অদ্যাবধি ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলে বিবেচিত হয়ে থাকেন। তাঁর অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২১টি ম্যাচে জয়লাভ করে। বিশ্বক্রীড়ার জগতে বিশেষত ক্রিকেটে উজ্জ্বলতম তারকা সৌরভ গাঙ্গুলীর কৃতিত্ব স্ব-মহিমায় ভাস্বর। এ কথাটি প্রায়ই বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীতের পর দেশে দ্বিতীয় কঠিন কাজটি হলো ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেয়া।      উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, পশ্চিম বঙ্গের জি বাংলা টিভির বহুল জনপ্রিয় ‘দাদাগিরি’ অনুষ্ঠানের সাফল্যের কারণেও সঞ্চালক হিসেবে তিনি বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন। সৌরভ গাঙ্গুলী আমাদের দুই বাংলায় ‘দাদা’ হিসেবেও খ্যাত। ভারতের জাতীয় বাঙালি ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন সফল অধিনায়ক, ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ বাঙালি বাবু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ। ১৯৭২ সালের আজকের দিনে কলকাতার বেহালাতে জন্মগ্রহণ করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।      আজ তার ৪৬তম জন্মবার্ষিকী।  ভারতের জাতীয় ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছাঞ্জলি লিখতে গিয়ে পাঠ করতে প্রাণিত হই সুখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক রঞ্জন সেনের লেখা ‘প্রিন্স অব কলকাতা’। এই গ্রন্থের আলোকেই সৌরভ গাঙ্গুলীর ৪৬তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছাঞ্জলি জানানোর চেষ্টা করছি। অবশ্য রঞ্জন সেন সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মসাল উল্লেখ করেছেন ১৯৭৩ (পৃ:৩৫)। সৌরভ গাঙ্গুলীর প্রতি অনুসন্ধিৎসুজনের জন্য রঞ্জন সেন-এর লেখা ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ বইটি একটি বিশেষ সহায়ক ও প্রয়োজনীয় রচনাগ্রন্থ বল বিবেচনা করি। ২০০৬ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইটির সাম্প্রতিক সংস্করণ প্রকাশের দাবি জানাতেও দ্বিধা করছি না। সময়ের দাবির প্রেক্ষিতেই বইটির আধুনিক সংস্করণ সময়ের জরুরি দাবি। আশাকরি রঞ্জন সেন এই দাবির প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।   ২. আগামী প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ বই থেকে জানতে পারি ‘বাংলার গৌরব’ সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনের অনেক অজানা কথা, নানা অধ্যায়, ক্রিকেট খেলার অন্দরমহলের রাজনীতির মেঘ-বৃষ্টিও। সেই সাথে স্বপ্ন আর সংগ্রামী চেতনার এই বাঙালি সন্তানের, অদম্য খেলোয়ারের ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার সাহসিকতাকে। ‘প্রিন্স অব কলকাতা’য় সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন ও বর্ণময় ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে গবেষণার ভিত্তিতে। পাই ক্রিকেট সংশ্লিষ্টজনদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত। ক্রিকেটার অরুণলালের মতে, ‘সৌরভ অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে।’    আর ক্রিকেট ইতিহাসবেত্তা ও সমাজবিজ্ঞানী রামচন্দ্র গুহের ‘গাঙ্গুলী যুগ’-এর সাবলীল বর্ণনাও পাই বইটিতে। রঞ্জন সেনের ভাষ্য অনুযায়ী ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ পাঠে জানতে পারি, সুনীল গাভাস্কারের পর সম্ভবত সৌরভ গাঙ্গুলীই আঞ্চলিকতার টানে বিভক্ত ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রথম একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আবার যে ভারতীয় দল সাম্প্রদায়িকতার অদৃশ্য থাবা থেকে কখনওই মুক্ত ছিলো না, সেক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম গাঙ্গুলী যুগ। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে ভারতের প্রথম একাদশে একসঙ্গে ৩ জন মুসলিম (জহির খান, কাইফ, আরফান পাঠান) খেলোয়াড় দেখা গেছে। এটাও ভারতীয় ক্রিকেটে নজিরবিহীন। এ রকম আরো অনেক অনন্য কথা তুলে ধরা আছে বইটিতে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সালে জেফরি বয়কট সৌরভ গাঙ্গুলীকে ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।   ৩. ক্রিকেট সমালোচকদের মতে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেবলমাত্র একজন আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন অধিনায়কই ছিলেন না, তাঁর অধীনে যে সকল তরুণ ক্রিকেটারেরা খেলতেন, তাঁদের কেরিয়ারের উন্নতিকল্পেও তিনি প্রভূত সহায়তা করতেন। সৌরভ গাঙ্গুলীর অধিনায়কত্বেই ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত ফাইনালে পৌঁছে যায়। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম বিদেশি কোচ ছিলেন জন রাইট। সৌরভ-রাইট জুটির হাত ধরেই ২০০১ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় ভারত।   ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৩ সালে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় ভারত। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই থাকতে হয়। কিন্তু রাইট-সৌরভ জুটি ঠিকই হৃদয় জিতে নেন সেবার। ২০০৮ সালের ৭ অক্টোবর সৌরভ ঘোষণা করেন যে সেই মাসে শুরু হতে চলা টেস্ট সিরিজটিই হবে তাঁর জীবনের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ। অনূর্দ্ধ ১৫ বাংলার হয়ে ওড়িশার বিরুদ্ধে শতরান, ১৯৯১ সালে পূর্বাঞ্চলের হয়ে দলীপ ট্রফিতে ১২১ রান তাঁকে ভারতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছিল।   ৪. ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই কলকাতার বেহালায় একটি স্বনামধন্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সৌরভের পারিবারিক নাম সৌরভ চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বাবার নাম চন্ডিদাস গঙ্গোপাধ্যায় ও মাতার নাম নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ মূলত তাঁর দাদার সাহায্যে ক্রিকেট জীবনে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি প্রথম জীবনে স্কুল ও রাজ্যের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন ক্রিকেট জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে থাকেন তিনি।    তিনি তাঁর জীবনের প্রথম একদিনের আন্তজার্তিক ম্যাচ খেলেন ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি। কিন্তু তিনি সেই অভিষেক ম্যাচে মাত্র তিন (৩) রান করেন, যার ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বাদ পড়েন। তার পরে ১৯৯৩-১৯৯৪ এবং ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের রঞ্জি ট্রফিতে চমৎকার সাফল্য লাভ করেন যার ফলে তিনি আবার ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্য খেলার সুযোগ পান। এরপরে সেই সফরেই তিনি তাঁর জীবনের প্রথম টেষ্ট খেলেন ১৯৯৬ সালের ২০ জুন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিনি সেই সফরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন। প্রভাবশালী ক্রীড়া লেখক পিটার রোবকের উদ্ধৃতি দিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলী সম্পর্কে রঞ্জন সেন জানাচ্ছেন, ‘তিনি প্রাণবন্ত ক্রিকেটার, ঘৃণিত অভিজাত, প্রতিবাদী তরুণ, আকর্ষণীয় সমাজকর্মী, চমৎকার অধিনায়ক ও অকুতোভয় যোদ্ধার সংমিশ্রণ।’ তাকে ভালোবাসা বা ঘৃণা করা যায়, কিন্তু অবজ্ঞা করা যাবে না।   ৫. সৌরভ গাঙ্গুলী প্রেম করে বিয়ে করেন নৃত্যশিল্পী স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীকে। সেই প্রণয় এবং তার টানাপোড়েনের কিছু কাহিনিও জানতে পারি রঞ্জন সেন-এর লেখা ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ গ্রন্থে। অকপটে উল্লেখ করেছেন লেখক এ রকম আরো বেশকিছু তথ্য। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনকে জানার জানালা খুলে যায় বইটি পাঠে। প্রসঙ্গত সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলী ওড়িশি নৃত্যের একজন প্রথিতযশা শিল্পী ও প্রশিক্ষক। তাদের একমাত্র সন্তানের নাম সানা গাঙ্গুলী। ৬. ভারতীয় ক্রিকেটের এই বর পুত্র, স্পষ্টভাষী, দৃঢ়চেতা সৌরভ গাঙ্গুলী ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার পর ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর সৌরভ তাঁর সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। এরপরে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেন এবং ২০০৮ ও ২০১০ সালে এই দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আইপিএলের চতুর্থ সিজনে নিলামে তিনি অবিক্রীত থেকে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুনে ওয়্যারিআর্সের দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে তিনি পুনে ওয়্যারিআর্সের মেন্টর ও অধিনায়ক।   ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি সৌরভ গাঙ্গুলিকে ডি-লিট সম্মাননা প্রদান করে। কোনো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে এই প্রথম ডি.লিট ডিগ্রি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। সে বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন। এ ছাড়াও শ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার লাইভ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস বা আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয় ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি এবং টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজকে। ভারতের এই জনপ্রিয় সাবেক অধিনায়ক আপাতত দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির (সিএসি) অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   ৭. ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ সৌরভ গাঙ্গলিকে নিয়ে লেখা একটি পছন্দের কবিতার নাম ‘বেহালার ছেলেটা’। লিখেছেন কবি সুবোধ সরকার। এখানে কবিতাটির অংশবিশেষ তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না । “একটা দুরন্ত ছয় মারল ছেলেটা। জ্যোৎস্না পার হয়ে বলটা গিয়ে পড়ল আসামের জঙ্গলে, সেখানে তিনজন টেররিস্ট বসে আছে সাইনাইড খাবে বলে তিনজনই লাফিয়ে উঠল , আঃ মৃত্যু! দাঁড়াও! আর একটা ছয় দেখে যেতে চাই জ্যোৎস্না পার হয়ে, পার হয়ে , বল এসে পড়ল এবার বম্বের ধারাভিতে-এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি তিনজন মারামারি করছিল রুটি তরকা নিয়ে, থেমে গেল। জোয়ারের মত বেরিয়ে গেল গোটা ঝোপড়ি খেতে-না-পাওয়া জ্যোৎস্নায় থমকে দাঁড়ানো ভারতবর্ষ । জ্যোৎস্না পার হয়ে বল এসে পড়ল আহমেদাবাদে বল জিজ্ঞেস করল , তোমরা কাকে পুড়িয়ে মারছ? বল এসে পড়ল শ্রীনগরে , বল জিজ্ঞেস করল ঃ কী হয়েছে তোমাদের , এত বছর ধরে একই ভুল করে চলেছ তোমরা? মা, দেখ কী সুন্দর দেখাচ্ছে আমাদের ছেলেটাকে ! কে? কে বলল কথাটা? আমি? আমি কে? আমি ধর্ম, আমি অধর্ম, আমি ব্রাক্ষ্মন,আমি মেথর, আমি কলেজে পড়ি, আমি জেলখানায় আমি মাঠে, আমি বস্তিতে, আমি বারোতলায়.. আমাকে চিনলে না? আমি ভারতবর্ষ…… বিদ্যুতবেগে একটা বল ছুটে যাচ্ছে বাউন্ডারির বাইরে গ্যালারি নয়, গোটা ভারত বর্ষ উঠে দাঁড়িয়েছে এত রাতে ধর্ম ভুলে, জাতি ভুলে, দাঙ্গা ভুলে বলটা কোথায় গিয়ে পড়ল একটু দেখবে বলে।”   ৮. সম্প্রতি আত্মজীবনীতে বোমা ফাটালেন সৌরভ। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে জানতে পারি, ২০০৫ সালে আচমকা তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়া এবং দল থেকে তাকে বাদ দেয়ার বিষয়টিকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। আত্মজীবনী ‘আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ’ প্রকাশিত হওয়ার আগে বোমা ফাটালেন বর্তমান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) প্রধান সৌরভ।    সাক্ষাৎকারে ভারতের সাবেক অসি কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা’। সৌরভ বলেন, ‘২০০৪ সালে তৎকালীন কোচ জন রাইটের পর ভারতীয় কোচ কে হতে পারেন এ নিয়ে আমরা যখন চিন্তায়, তখনই গ্রেগ চ্যাপেলের কথা মাথায় আসে। মনে হয়েছিল আমাদের একনম্বরে পৌঁছে দিতে তিনিই যোগ্য ব্যক্তি। আমি পছন্দের কথা জগমোহন ডালমিয়াকে (তৎকালীন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট) জানাই, যদিও কেউ কেউ এ নিয়ে আমাকে নিষেধ করেছিলেন।’   সাবেক ভারত অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কারের কথা উল্লেখ করে সৌরভ বলেন, ‘সানি ভাই বলেছিলেন, সৌরভ ব্যাপারটা আরেকবার ভেবে দেখো। সে থাকলে দল পরিচালনায় তোমার সমস্যা হতে পারে। তার কোচিং রেকর্ডও আকর্ষণীয় নয়।’ সৌরভকে সতর্ক করেছিলেন বোর্ড সভাপতি ডালমিয়াও। তার কথায়, ‘এক সকালে নিজের বাড়িতে ডেকে গ্রেগের ভাই ইয়ান চ্যাপেলের নেতিবাচক ধারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন ডালমিয়া। কিন্তু এসব কথায় কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। বাকিটা ইতিহাস।   আমার জীবনটা এরকমই। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে যেমন সেদেশ জয় করে ফিরেছিলাম, কিন্তু সেদেশের একজন নাগরিককেই জয় করতে পারিনি।’ ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক বলেন, ‘২০০৫ সালটা আমার জীবনের দুর্যোগপূর্ণ অধ্যায়। শুধু অধিনায়কত্বই কেড়ে নেয়া হয়নি আমার, দল থেকেও বাদ দেয়া হয় আমাকে। এখন লিখতে গিয়ে রাগ হচ্ছে। যা হয়েছিল তা অভাবনীয়। অগ্রহণযোগ্য। ক্ষমার অযোগ্য।’ ‘অ্যা সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ’ বইয়ে সৌরভের টেস্ট অভিষেক থেকে শুরু করে ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল, তার নেতৃত্বে ভারতীয় দলের বিবর্তনের কথা, অস্ট্রেলিয়ার অজেয় তকমা ভেঙে দেওয়া ও জীবনের কঠিনতম সময়ের নানা কাহিনী ওঠে এসেছে। পাশাপাশি কঠিন সময়ে নিজেকে কীভাবে অনুপ্রেরণা জোগাতেন সৌরভ, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। ৯. ভারতের প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আবারো জানাই শুভেচ্ছাঞ্জলি। সেই সাথে ‘প্রিন্স অব কলকাতা’- চমৎকার এই গ্রন্থ রচনার জন্য ক্রীড়া সাংবাদিক রঞ্জন সেনকেও জানাই কৃতজ্ঞতা, জ্ঞাপন করছি অশেষ ধন্যবাদ।   (তথ্যসূত্র : প্রিন্স অব কলকাতা : রঞ্জন সেন, আগামী প্রকাশনী, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, ইন্টারনেট)     লেখকঃ আবদুল্লাহ আল মোহন সহকারী অধ্যাপক সরকারী ভাসানটেক কলেজ