logo
Update : 2018-06-16 18:39:51
জঙ্গি ও সেনাসদস্যদের ঈদের কোলাকুলি!

জঙ্গি ও সেনাসদস্যদের ঈদের কোলাকুলি!

এমনও ছবি দেখা যাবে নাকি? ছবিগুলো তোলার সময় এরকমই ভাবছিলেন মিরওয়াইজ আফগান। বড় রাস্তার উপরে তখন সশস্ত্র তালেবান ও আফগান সেনা একে অপরকে আলিঙ্গনে মত্ত। ফলে ছবিগুলো হয়ে গেল অমূল্য। ঈদ উপলক্ষে এই মুহূর্ত দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া। ঘটনা কাবুলের দক্ষিণে থাকা লোগার প্রদেশ।   আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চলছে। ঈদ উপলক্ষে সংঘর্ষ থামানোর বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তাঁর বার্তার পরেই আফগান তালিবানরা পাল্টা বিবৃতি দিয়ে আপাতত অস্ত্র নামিয়ে রাখল। সেই রেশ ধরেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে জঙ্গি ও সেনা পরস্পর হাত মিলিয়ে, শুভেচ্ছা জানিয়ে ঈদ পালন করছে।   কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা জানাচ্ছে, এটা নজির হয়েই থাকবে। গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রকাশ্যে যেভাবে তালেবান ও আফগান সেনা একে অপরের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে সেটা দেখেই জনগণ চমৎকৃত। ফলে দেশজুড়ে ছড়িয়েছে শান্তি। আপাতত তিন দিনের জন্য হলেও শান্তিতে উৎসব পালন করছেন আফগানরা।    রাজধানী কাবুল প্রায়ই তালেবান হামলা ও বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়। গত কয়েক দিনে সেরকম ঘটনা ঘটেনি। রয়টার্স জানাচ্ছে, দূরবর্তী বিভিন্ন প্রদেশ যেখানে কখনো নিকেশ করা হয় জঙ্গিদের আবার কখনো নাশকতায় রক্তাক্ত হয় সেনা ছাউনি সেই সব এলাকাতেও চলছে উৎসব।   কুন্দুজের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, আমি দেখলাম এক তালেবান ও এক পুলিশ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সেলফি নিচ্ছে। এটা তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার।   আফগান সংবাদমাধ্যম TOLO জানাচ্ছে, কাবুলের সর্বত্রই চলছে উৎসব। নিরাপত্তারক্ষীরা আছেন। কিন্তু কোথায় যেন একটা হালকা আমেজ দেখা গিয়েছে। সবারই ধারণা, শনিবার ঈদের দিন আর কোনও রক্তাক্ত মুহূর্ত দেখা যাবে না। শিশু সহ অনেকেই ভিড় করছেন বিভিন্ন পার্ক ও দোকানে। চলছে আনন্দের মাঝে খাওয়া দাওয়ার পর্ব।   আফগান সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন সবাই। তালেবান জঙ্গি বনাম আফগান সরকারের সংঘর্ষ বারে বারে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ কারণে আফগানিস্তান মৃত্যুপুরী। আফগান-পাক সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা।   জঙ্গি দমন অভিযানে মৃত্যু হয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের নেতা মোল্লা ফজলুল্লার। যদিও পাকিস্তানের মাটিতেই এই ঘটনা ঘটে। তার জেরে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি কথা বলেছেন, পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নাসির উল মুলক ও সেনা প্রধান জেনারেল জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে।