logo
Update : 2017-09-12 16:44:37
যদি ভালো ভাবে খেলতে চাই তাহলে এই বিশ্রামটা জরুরি: সাকিব

যদি ভালো ভাবে খেলতে চাই তাহলে এই বিশ্রামটা জরুরি: সাকিব

  সবচেয়ে মর্যাদার যে খেলা খেলতে অন্যদের তুলনায় কম সুযোগ হয় বাংলাদেশের, সেই খেলা থেকেই কেন এই হঠাৎ বিশ্রাম সাকিব আল হাসানের? কি হয়েছে তার? এটাই এখন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম চমক লাগানো খবর। চারদিকে এই গুঞ্জন-গুজবের মাঝে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বনানীতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন তিনি। সেখানেই সব খোলাসা করেছেন তিন সংস্করণেই বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার। মিটিয়েছেন কৌতূহল, জানিয়েছেন টানা খেলার ধকল সামলাতে বিশ্রাম নিয়েছেন। চাঙা হয়ে খেলতে চান আরও ৬-৭ বছর। সাংবাদিকদের কাছে সাকিব জানান, সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আমি মনে করি আমার আরও খেলার বাকি আছে। এবং যদি ওইটা খেলতে চাই এবং ভালো ভাবে খেলতে চাই তাহলে এই বিশ্রামটা জরুরি। সাকিব আরও জানান, যেহেতু অনেক বেশি খেলা হয় আর আমার ফিটনেসটাও ওই ভাবে করা হয় না। হলেও যেটা হয় মেন্টাল ফ্রেশনেস যেটা দরকার আছে ওইটা আসলে ইয়ে হয় না। আর এমন তো না দুই একদিন খেলে ছেড়ে দিয়েছি। ১০/১১ বছর হয়ে গেল। একটা ব্রেক তো নিতেই পারি, ডিজার্ভ করি।' টেস্ট থেকে ছয় মাসের বিশ্রাম চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিসিবি কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই তাকে ছুটি দিয়েছে। তবে নির্বাচকরা তার জন্য এই সিরিজে খেলার জায়গাটা উন্মুক্ত রেখেই দিয়েছেন। আর জানিয়েছেন, ফিরতে হবে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজেই। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সাকিব বলেছেন, 'আমি ছয় মাসের জন্যই করেছি। ছয় মাসে যেটা আমার আর দুইটা টেস্ট ম্যাচ আছে শ্রীলঙ্কার সাথে। এখন পর্যন্ত আমাকে অনুমতি দিয়েছে যে এই দুইটা টেস্ট আমি রেস্ট নিতে পারি। এরপর যখন খেলা শুরু হয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর বিপিএল এরপর শ্রীলঙ্কা। তখন আমি চিন্তা করবো এই দুইটা টেস্ট খেলতে পারবো কি পারবো না।' শারীরিক বিশ্রামের সঙ্গে আছে মানসিক বিশ্রামও। কিছুদিন নিজের মতো থাকলে আরও বেশি চাঙা হয়ে উঠতে পারবেন পারবেন। দেশের হয়ে খেলতে পারবেন আরও কয়েকবছর। জানালেন এমনটাই, 'এই ব্রেকটা যদি নেই তাহলে শারীরিকভাবে, তার চেয়েও বেশি মানসিক ভাবে রিফ্রেশ হয়ে আরও পাঁচ বছর খেলা সম্ভব হবে। যেটা আমি মনে করি বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটা দুইটা ম্যাচ কিংবা একটা দুইটা মাস না খেলার থেকে।' এখন সাকিবের বয়স ৩০। তার মানে ৩৫ বছর পর্যন্ত খেলার টার্গেট ঠিক করে রেখেছেন। কেন টেস্ট থেকেই ব্রেক? ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি ছিল। সেটা তো ঠিকই চালিয়ে যাবেন। বিশ্রাম নিতে টেস্টকেই বেছে নেওয়া কেন? ব্যাখ্যা দিলেন সাকিব, 'লিমিটেড ওভারের খেলা একদিনের হয় কিংবা তিন ঘণ্টার হয়। টেস্ট ম্যাচটা হয় পাঁচদিনের, প্রিপারেশন হয় আরও ১০ দিনের। প্র্যাকটিস ম্যাচ থাকে আরও তিনদিন। সো বেসিক্যালি আপনি যদি একটা টেস্ট সিরিজ রেস্ট নেন তাহলে বিশ্রাম পাবেন এক মাসের। একটা টি-টুয়েন্টি সিরিজে ব্রেক নিলে পাবেন তিনদিনের। আর একটা ওডিআই নিলে পাবেন সাতদিনের। আমার আসলে একটু বড় ব্রেক দরকার এই জন্য আসলে টেস্ট ম্যাচে ব্রেক নেওয়া।' চলতি বছর ৭ টেস্ট খেলে ৬৬৫ রান করেছেন সাকিব। বল হাতে পেয়েছেন ২৯ উইকেট। তার সামনে সুযোগ ছিলো এক পঞ্জিকাবর্ষে ১ হাজার রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার। আছে দেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ২১৭। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৫১টি টেস্ট খেলে ৩৫৯৪ রান করেছেন সাকিব। সেঞ্চুরি ৫টি, হাফ সেঞ্চুরি ২২টি। বল হাতে দেশের সর্বোচ্চ ১৮৮ উইকেট তার।  ওয়ানডের রেকর্ডও উজ্জ্বল সাকিবের। ১৭৭ ওয়ানডে খেলে করে ফেলেছেন  ৪৯৮৩ রান। ৭ সেঞ্চুরির সাথে আছে ৩৪ ফিফটি। বল হাতে একদিনের ম্যাচে আছে ২২৪ উইকেট। ৫৯ টি-টুয়েন্টিতে ১২০৮ রানের সাথে আছে ৭০ উইকেট।