logo
Update : 2017-09-07 14:10:43
কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শনে তুর্কি ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শনে তুর্কি ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ক্যাম্প ও অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করেছেন বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত ক্যাভুফোগলু। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁরা ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এসময় বিমানবন্দরে তাঁদেরকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। এদিন বেলা ১২টার দিকে তাঁরা কক্সবাজার পৌঁছান। সেখান তাঁদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। এরপর তাঁরা কুতুপালং ক্যাম্পের দিকে রওনা দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করেন তাঁরা।   জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফোন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকেও হুঁশিয়ার করেছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত শুক্রবার বিবৃতিও দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি একে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন। এর পরেই গত মঙ্গলবার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য পাঠানো তুরস্কের এক হাজার টন ত্রাণ বিতরণের অনুমতি দেয় মিয়ানমার সরকার। টেলিফোনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেইপিদো ওই অনুমতি দেয়।   প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাখাইনে এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।  এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জাতিসংঘের হিসাবে বলা হয়েছে। এর আগে গেল বছরের অক্টোবরে প্রায় একই ধরনের এক হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর এই রাজ্যে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ ওঠে। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও ওঠে। সেবার মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরুর পর প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান নেয়। ওই ঘটনায় জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করতে না করতেই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। আগস্ট মাসের শুরুর দিকে মংড়ু এলাকায় সাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর আগস্ট মাসের ১২ তারিখে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলে রাখাইনে কয়েকশ সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। এ দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ফের বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা।