৩০০ শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিলো বসুন্ধরা আই হসপিটাল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
শ্রেণিকক্ষের বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখা, বই পড়ার সময় চোখের খুব কাছে নিয়ে যাওয়া কিংবা ঘন ঘন মাথাব্যথা—শিশুদের চোখের এমন অনেক জটিল লক্ষণ প্রতিনিয়ত অভিভাবকদের অজান্তেই থেকে যাচ্ছে। শৈশবের এই দৃষ্টিস্বল্পতা দূর করতে রাজধানীর রিভেরি স্কুলে বিনামূল্যে দিনব্যাপী এক চক্ষুসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা আই হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে প্লে-গ্রুপ থেকে শুরু করে নার্সারি শ্রেণির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত রিভেরি স্কুলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে দূরের অক্ষর চেনার 'স্নেলেন চার্ট' বা ভিজ্যুয়াল অ্যাকুইটি পরীক্ষা করা হয়। এরপর স্লিট ল্যাম্প প্রযুক্তির সাহায্যে কর্নিয়া, আইরিস ও লেন্স পর্যবেক্ষণসহ চোখের সংক্রমণ, ক্ষত বা ছানি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন চিকিৎসকেরা।
পরীক্ষা শেষে বসুন্ধরা আই হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কনসালট্যান্ট ডা. তাসরুবা শাহনাজ জানান, প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে গড়ে ১০ জনের চোখেই কোনো না কোনো পাওয়ারজনিত সমস্যা ধরা পড়েছে, যা এর আগে কখনো শনাক্তই হয়নি।
তিনি এর পেছনে অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন নির্ভরতা, ঘরের বাইরে খেলার সুযোগ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে কাছের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকাকে দায়ী করেন। মাথাব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব চোখের সমস্যার অন্যতম পূর্বলক্ষণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের চোখের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো 'মায়োপিয়া' বা ক্ষীণদৃষ্টি, যার কারণে তারা কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখলেও দূরের বস্তু ঝাপসা দেখে।
হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আহনাক শাহরিয়ার বলেন, মায়োপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়ার (দূরদৃষ্টি) মতো সমস্যাগুলো যদি ছোটবেলায় ধরা না পড়ে, তবে শিশুর দৃষ্টিশক্তির স্বাভাবিক বিকাশ চিরতরে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর মায়োপিয়া পরবর্তী সময়ে রেটিনার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্কুলে পড়াশোনা শুরুর আগেই প্রতিটি শিশুর বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
ক্যাম্পে এসে নিজের সন্তানের চোখের ত্রুটি প্রথম জানতে পারেন রিভেরি স্কুলের হিফজুল কুরআন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘শিশুরা নিজেরা সমস্যার কথা গুছিয়ে বলতে পারে না বলে আমরাও বুঝতে পারিনি। এই ক্যাম্প না হলে হয়তো রোগটি অনেক দেরিতে ধরা পড়ত এবং বাচ্চার বড় ক্ষতি হয়ে যেত।’’
ক্যাম্পে চিকিৎসকেরা শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসের পরিমিত ব্যবহার এবং চোখের সুরক্ষায় নানা পরামর্শ দেন।
আয়োজকেরা জানান, শৈশবেই চোখের রোগ প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের দিকনির্দেশনা এবং ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ২০১৪ সাল থেকে এই মানবিক সেবা কার্যক্রম চলছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে নিয়মিত এই আই ক্যাম্প পরিচালনা করছে।
শুধু বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা বা ওষুধ দেওয়াই নয়, ছানি ও নেত্রনালির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ঢাকায় এনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করছে বসুন্ধরা গ্রুপ।