অস্ত্রোপচার ছাড়াই ‘ন্যাচারাল বাইপাস’, হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
হৃদরোগের চিকিৎসায় বাইপাস ও রিং পরানোর পাশাপাশি কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইইসিপি ও বিসিটি পদ্ধতিতে চিকিৎসার কথা জানিয়েছে মাতৃভূমি হার্ট কেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. সাদিয়া আলী অলিনের দাবি, এসব পদ্ধতি হৃদ্যন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করে।
কীভাবে তৈরি হতে পারে ‘ন্যাচারাল বাইপাস’?
ডা. সাদিয়া আলী অলিন বলেন, হৃদ্যন্ত্রে অসংখ্য ছোট রক্তনালি রয়েছে। সাধারণ অবস্থায় এসব রক্তনালির কিছু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকে। ইইসিপি ও বিসিটি চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করা হয়। ফলে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।
তার ভাষ্য, হৃদ্যন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে বুকে ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে এসব সমস্যা কমাতে সহায়তা করাই এ ধরনের চিকিৎসার অন্যতম লক্ষ্য।
ইইসিপি ও বিসিটি কীভাবে কাজ করে?
বিসিটি বা ব্লাড ক্লিনজিং থেরাপি সম্পর্কে ডা. সাদিয়া বলেন, এ পদ্ধতিতে স্যালাইনের মাধ্যমে একটি বিশেষ ওষুধ দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুযায়ী, এটি হৃদ্যন্ত্রের ব্লকের ওপর কাজ করে এবং ব্লকের আকার কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ইইসিপি বা ন্যাচারাল বাইপাস চিকিৎসার পাশাপাশি বিসিটিকে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
মাতৃভূমি হার্ট কেয়ারে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. সাদিয়া। তার দাবি, পদ্ধতিটি প্রথম চীনে উদ্ভাবিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এ চিকিৎসাপদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসায় সফলতার হার কত?
চিকিৎসার সফলতার হার সম্পর্কে ডা. সাদিয়া বলেন, তাদের পর্যবেক্ষণে ইইসিপি ও বিসিটি চিকিৎসায় সফলতার হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি। তবে এ সফলতার হার কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোন রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
হৃদরোগের চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীর শারীরিক অবস্থা, হৃদ্যন্ত্রের ব্লকের ধরন এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে। তাই চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কত দিন লাগে, খরচই বা কত?
ডা. সাদিয়া জানান, ইইসিপি চিকিৎসায় সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ঘণ্টার সেশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা করে ৩০ থেকে ৩৫ দিন চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, বিসিটি চিকিৎসায় কমপক্ষে ২০টি স্যালাইন সেশন দেওয়া হয়। প্রতিটি সেশনে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। সাধারণত এসব চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজন হয় না বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসার ব্যয় সম্পর্কে তাঁর ভাষ্য, ইইসিপির ৩৫ ঘণ্টার চিকিৎসায় খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতি ঘণ্টার খরচ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বিসিটির ক্ষেত্রে প্রতিটি স্যালাইনের ওষুধের খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা। ২০টি সেশনে মোট খরচ প্রায় ৮০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে রোগীর প্রেসক্রিপশন ও প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ কমবেশি হতে পারে।
অসচ্ছল রোগীদের জন্য ছাড়
অসচ্ছল রোগীদের জন্য খরচ কমানোর ব্যবস্থার কথাও জানান ডা. সাদিয়া। তিনি বলেন, গরিব, অসহায় ও নিম্নবিত্ত রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সামর্থ্য বিবেচনায় কম খরচে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও পরিবর্তন জরুরি
হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. সাদিয়া। তার পরামর্শ, বাইপাস, রিং পরানো কিংবা ন্যাচারাল বাইপাস—যে চিকিৎসাই নেওয়া হোক, অস্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে শাকসবজি ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
হৃদরোগের চিকিৎসায় কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি চিকিৎসার পরও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আগামীর সময়
