EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
অ অ

চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি তখন বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন–চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এর সঙ্গে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখনই প্রতিরোধ জোরদার করা না হলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা হবে। দু–এক দিনের মধ্যেই সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু হবে।

বিশেষ করে ঢাকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কর্মীদের প্রবেশে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ কারণে অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি শুধু নজরদারি করে নির্মূল করা যায় না। প্রতিটি নাগরিককে নিজ থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীর মতো ভূমিকা পালন করতে হবে।

হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যাতে চিকিৎসাসেবায় সংকট না হয়, সে প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে কোনো শয্যাসংকট নেই। সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সোমবার সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুমে বৈঠক হবে। সেখানে অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

মৃত্যুর হার কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের ভেতরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত মশারি বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মৃত্যুকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে এবার এক মাস আগেই সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।

মশক নিধন কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতাও চান তিনি।

আরও পড়ুন