৬ মাসে হামের প্রকোপে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশে। এ সময়ে দেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া হাম ও রুবেলা সংক্রমণসংক্রান্ত প্রাথমিক উপাত্ত বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৪ জুলাই প্রকাশিত নজরদারি প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)ও ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একই সময়ে ২৬ হাজার ৬০৭ রোগী নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন, যেখানে রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫২১। শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে মেক্সিকো, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, কাজাখস্তান, গুয়াতেমালা, অ্যাঙ্গোলা ও সুদান।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এই ছয় মাসে বিশ্বের ১৬৫ দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
এর আগে জুন মাসের প্রতিবেদনে হাম সংক্রমণে ভারত ছিল শীর্ষে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাসে ভারতে ২৩ হাজার ৩৬১ জন এবং বাংলাদেশে ১৪ হাজার ৭০৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
দেশে চলতি বছরের শুরুতে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হামের সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০২ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, মার্চে বাংলাদেশে হামের রোগী প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছায়। এপ্রিলে তা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মে মাসে আরও প্রায় ১৫ হাজার রোগী শনাক্ত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এবার হাম সংক্রমণে বিশ্বে শীর্ষে থাকবে—এটি প্রায় নিশ্চিত। তার মতে, সংক্রমণের পাশাপাশি হামে মৃত্যুর সংখ্যাও বাংলাদেশে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরগুলোতে দেশে হামের প্রকোপ ছিল তুলনামূলক কম। ২০২৫ সালে ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭ জন, ২০২৩ সালে ২৮২ জন এবং ২০২২ সালে ৩১১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
বাংলাদেশে অতীতে জাতীয় পর্যায়ে হাম টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও ২০২০-২১ সালের পর আর বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদানের হার কমতে কমতে ২০২৫ সালে ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকার সংকটও দেখা দেয়।
ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এক বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার আক্রান্ত শিশুর মধ্যে চার হাজারের বেশি হামের দুই ডোজের একটি টিকাও পায়নি। এছাড়া এক থেকে চার বছর বয়সী এবং পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশও টিকার পূর্ণ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল।