ঈদযাত্রায় হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল
৭১ দিনে মৃত্যু ৫৪৫, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ শিশুর প্রাণহানি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহার যাত্রায় দেশজুড়ে মানুষের ব্যাপক চলাচলের কারণে হামের সংক্রমণ তীব্র আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭১ দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষ শিশুদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে। এতে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঈদের পরের এক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুরা বেশি বিপদে পড়বে।’
বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর র্যাশ বা গুটি ওঠার অন্তত চার দিন আগ থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অজান্তে রোগটি ছড়াতে শুরু করেন। ফলে ঈদযাত্রার ভিড় ও গণপরিবহনে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, ‘পরিবারের কারও জ্বর, সর্দি বা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ থাকলে তাকে নিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা জানান, হামের ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শুধু ঈদযাত্রাকেই সংক্রমণ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দেশের সব এলাকায় এখনো ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে যেসব এলাকায় টিকার হার কম, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে শিশুরা সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হাম হলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কোনো চিকিৎসক বা নার্সের ছুটি হবে না। যেসব হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি আছে, সেখানে ঈদের ছুটির মধ্যেও চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।’ তিনি আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ারও পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৭ শিশুর মধ্যে ৭ জনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেটে ৩ জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্তের পর থেকে ৭১ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ জনে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।