গরম ভাত থাকতে পান্তা কেন খাবেন? জানুন কারণ
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে আয়রনের পরিমাণ ৩.৪ মিলিগ্রাম, সেখানে পান্তাভাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই সব উৎসবের মধ্যে পহেলা বৈশাখ যেন পান্তাভাতের রাজকীয় অভিষেকের দিন। একসময় পান্তাভাতকে কেবল ‘গরিবের খাবার’ বা ‘রাতের বেঁচে যাওয়া খাবার’ মনে করা হলেও, আধুনিক বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। এটি এখন কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং পুষ্টিগুণে ঠাসা এক অনন্য ‘সুপারফুড’।
পান্তাভাতের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ‘ফার্মেন্টেশন’ প্রক্রিয়ায়। রান্না করা ভাত দীর্ঘ সময় (সাধারণত ১০-১২ ঘণ্টা) পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখলে তাতে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এতে ভাতের কার্বোহাইড্রেট ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াই ভাতের সাধারণ পুষ্টিগুণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, পান্তাভাতে সাধারণ ভাতের চেয়ে বেশি মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে। এর উল্লেখযোগ্য কিছু গুণাগুণ হলো:
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে আয়রনের পরিমাণ ৩.৪ মিলিগ্রাম, সেখানে পান্তাভাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম পর্যন্ত। যা রক্তশূন্যতা দূর করতে দারুণ কার্যকর।
ফার্মেন্টেশনের ফলে ভাতের জটিল শর্করা ভেঙে যায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করে তোলে। পেটের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পান্তা আশীর্বাদের মতো।
টক দইয়ের মতো পান্তাভাতেও প্রচুর উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক তৈরি হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহে পান্তাভাত শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে। এটি শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হতে দেয় না।
পান্তাভাতে থাকা ভিটামিন-বি১২ এবং বি৬ ক্লান্তি দূর করে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।
পান্তাভাতের স্বাদ ও পুষ্টি বাড়াতে বাঙালির প্রিয় অনুষঙ্গ হলো কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ আর আলুভর্তা। তবে পুষ্টিবিদদের মতে- ভাত ভেজানোর জলটি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। বাসি পান্তা (১২ ঘণ্টার বেশি) না খাওয়াই ভালো, এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। মাটির পাত্রে ভাত ভেজালে এর স্বাদ ও গুণাগুণ বেশি অটুট থাকে।
আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির একটি গবেষণায় পান্তাভাতের এই জাদুকরী গুণের কথা উঠে আসার পর বিশ্বজুড়ে এটি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ সকালের নাস্তায় পান্তার মতো খাবারকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তাই এবারের বৈশাখে কেবল লোকদেখানো নয়, বরং সুস্থ থাকতে এবং নিজের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে এক বাটি পান্তা হোক আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী।