মনোযোগ ও মানসিক চাপ শনাক্ত করবে যে ডিভাইস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় কাজের মধ্যে থেকেও মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ কিংবা চারপাশের নানা বিভ্রান্তি মানুষের মনকে বর্তমান মুহূর্ত থেকে সরিয়ে নিতে পারে। ঠিক কোন সময়ে এবং কী পরিস্থিতিতে মনোযোগ কমে যাচ্ছে, তা শনাক্ত করার লক্ষ্যেই নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি তৈরি করেছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলাস’।
কানের পেছনে লাগানো ছোট সেন্সর ‘অ্যাটলাস ১.০’ মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ও মানসিক অবস্থার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঠালো প্যাডের মাধ্যমে ত্বকের সঙ্গে যুক্ত করা যায় ‘অ্যাটলাস ১.০’ সেন্সরটি। কানের পেছনে বসানো এই ছোট ডিভাইস মস্তিষ্কের তরঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের সংকেত সংগ্রহ করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারকারীর মনোযোগের মাত্রা কেমন ছিল, সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে এটি।
শুধু মস্তিষ্কের তরঙ্গ নয়, সেন্সরটি ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল কার্যকলাপ, শরীরের নড়াচড়া এবং ব্যবহারকারীর কথা বলার ধরন বা ‘ভয়েস সিগনেচার’-সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করে। পরে অ্যাটলাসের নিজস্ব অ্যালগরিদম এসব সংকেত বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার অবস্থা সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন তৈরি করে।
এর মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতিতে মনোযোগের পরিবর্তনও বোঝার চেষ্টা করা হবে। যেমন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় শারীরিকভাবে সেখানে উপস্থিত থাকলেও মানসিকভাবে অন্য কোনো চিন্তা বা দুশ্চিন্তায় ব্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও প্রযুক্তিটি শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।
বর্তমানে ডিভাইসটির সঙ্গে ব্যবহারের জন্য অ্যাপটি শুধু আইওএস ডিভাইসে পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী জানতে পারবেন, দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তিনি কতটা মনোযোগী ছিলেন, মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে তার কর্মক্ষমতা কেমন ছিল এবং চাপ কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার কতটা সময় লেগেছে।
এ ছাড়া দিনের বিভিন্ন সময়ে কী ধরনের কাজ বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, সেই তথ্যও অ্যাপে সংরক্ষণ করা যাবে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারী নিজের জন্য কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতি বেশি কার্যকর এবং কোন অবস্থায় মনোযোগ ধরে রাখা তুলনামূলক কঠিন—তা বুঝতে পারবেন।
অ্যাটলাস জানিয়েছে, মানুষের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা কোন ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে পাওয়া যায়, তা শনাক্ত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীরা নিজেদের কাজের পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভ্যাস আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ডিভাইসটির ‘ভয়েস সিগনেচার’ বিশ্লেষণের বিষয়টি গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এ বিষয়ে অ্যাটলাসের দাবি, ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর কথোপকথন রেকর্ড করে না। বরং নির্দিষ্ট সময়ে তিনি কথা বলছেন কি না এবং কথা বলার ধরন কেমন—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে তার মানসিক অবস্থার ধারণা নেওয়া হয়।
অ্যাটলাস ১.০ প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে মানুষের লক্ষ্য অর্জন, মনোযোগ বৃদ্ধি কিংবা মানসিক সক্ষমতা উন্নত করতে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগের উন্নতি করতে আগ্রহীদের কথা বিবেচনায় রেখে ডিভাইসটির প্রি-অর্ডার ইতোমধ্যে শুরু করেছে অ্যাটলাস। ‘অ্যাটলাস ১.০’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ ডলার। এর পাশাপাশি সেন্সর ও আঠালো প্যাড ব্যবহারের সুবিধা চালু রাখতে প্রতি মাসে ৩০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।
