ছবি: সংগৃহীত
কর্মসংস্থানের বাজারে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা। একটি পদের বিপরীতে জমা পড়ে হাজারো সিভি। আকর্ষণীয় কোনো বিজ্ঞপ্তি দেখলেই অনেকে না ভেবে ‘অ্যাপ্লাই’ বাটনে ক্লিক করেন। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া তাড়াহুড়ো করে আবেদনের খেসারত দিতে হতে পারে। ভুল চাকরিতে যোগ দিলে শুধু সময় নষ্ট হয় না, ক্যারিয়ারের গতি থমকে যেতে পারে, নষ্ট হতে পারে মানসিক শান্তিও।
তাই যেকোনো চাকরিতে আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
১. কাজের বিবরণ
বিজ্ঞপ্তির আকর্ষণীয় পদবি বা টাইটেল দেখেই মোহিত হওয়া যাবে না। পদের ভেতরে থাকা মূল দায়িত্বগুলো খুঁটিয়ে পড়তে হবে। অনেক সময় পদের নাম ‘কমিউনিকেশন অফিসার’ হলেও কাজ করতে হয় মূলত সেলস বা বিপণনের।
• আপনার অর্জিত দক্ষতা এবং আগ্রহের সাথে কাজের বিবরণের মিল কতটুকু, তা মিলিয়ে নিন।
• বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া যোগ্যতার অন্তত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ আপনার সাথে মিললে তবেই আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
২. প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও কর্মপরিবেশ
একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পরিবেশ কেমন, তা আপনার পেশাদার সাফল্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আধুনিক যুগে শুধু কাজের জন্য নয়, কাজের পরিবেশের জন্য চাকরি পরিবর্তন করেন অনেকে।
• লিংকডইন-এর মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের রিভিউগুলো দেখুন।
• প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করে কি না এবং সেখানে কোনো ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত পরিবেশের চর্চা রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
৩. সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি
চাকরি শুধু মাস শেষে কিছু টাকা পাওয়ার মাধ্যম নয়, এটি আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার সিঁড়ি। তাই শুধু মূল বেতন দেখেই প্রলুব্ধ হবেন না।
• মূল বেতনের পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, উৎসব বোনাস এবং চিকিৎসা বীমার মতো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তাগুলো আছে কি না, তা নিশ্চিত হোন।
• এই পদে যোগ দিলে আগামী ২ বা ৩ বছরে আপনার নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন বা পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা ভাবুন।
৪. কাজের ধরন ও যাতায়াত
বর্তমান সময়ে কাজের মডেলে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাই কাজের মাধ্যমটি আপনার ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় কি না, তা নিশ্চিত হোন।
• চাকরিটি কি সম্পূর্ণ অফিসে গিয়ে, বাসা থেকে, নাকি হাইব্রিড মডেলের, তা দেখে নিন।
• কর্মঘণ্টা বা কাজের শিফট কেমন এবং আপনার বাসস্থান থেকে যাতায়াতের দূরত্ব কতটা সুবিধাজনক, তা বিবেচনা করুন। অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয় কি না, তাও জানা জরুরি।
৫. প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব ও সুনাম
যে সংস্থায় আপনি আপনার ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন, বাজারে সেটির আর্থিক অবস্থা এবং সুনাম কেমন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
• প্রতিষ্ঠানটি কতদিন ধরে বাজারে আছে এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি কেমন, তা নিয়ে একটু খোঁজখবর নিন।
• প্রায়ই কর্মী ছাঁটাই করার বা সময়মতো বেতন না দেওয়ার কোনো নেতিবাচক রেকর্ড প্রতিষ্ঠানটির আছে কি না, তা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিন।
একটি ভুল চাকরি আপনার আত্মবিশ্বাস চিরতরে কমিয়ে দিতে পারে। তাই বিজ্ঞপ্তিতে ক্লিক করার আগে এই বিষয়গুলো একটু সময় নিয়ে যাচাই করে নিলে আপনি সঠিক ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার দৌড়ে অন্যদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকবেন।