বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। এর আগে মঙ্গলবার উপকূলীয় এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের গতি হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ঝড়ের নাম কারা, কেন ও কীভাবে ঠিক করে, তা নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে।
আগে ঘূর্ণিঝড় চেনা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ বা সাল দিয়ে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো কঠিন হতো। উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নামকরণ শুরু হয়; প্রথম নাম ছিল ‘ওনিল’। এখন ডব্লিউএমও ও ইউএনএসক্যাপের ঘূর্ণিঝড় প্যানেলের ১৩ সদস্য দেশ নাম দেয়। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের নয়াদিল্লি কেন্দ্র (আরএসএমসি) এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম ঘোষণা করে।
২০২০ সালের এপ্রিলে প্রতিটি দেশের ১৩টি করে নাম নিয়ে ১৬৯ নামের নতুন তালিকা চূড়ান্ত হয়। দেশগুলোর ইংরেজি নামের বর্ণানুক্রমে সাজানো এই তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে নাম ব্যবহার করা হয়। ‘অর্ণব’ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম, যার অর্থ সমুদ্র। এ বছর উত্তর ভারত মহাসাগরে এটিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়। তালিকার পরের নাম ভারতের দেওয়া ‘মুরাসু’।
নাম প্রস্তাবের কিছু নিয়মও আছে। নামটি রাজনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও লিঙ্গের দিক থেকে নিরপেক্ষ হতে হবে। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না। উচ্চারণ সহজ ও নাম সংক্ষিপ্ত (সর্বোচ্চ আট অক্ষর) হতে হবে। একবার ব্যবহৃত নাম আর কখনো ফেরে না।
নামকরণ জরুরি, কারণ সংখ্যার চেয়ে নাম মনে রাখা ও ছড়িয়ে দেওয়া সহজ। একই সময়ে একাধিক ঝড় সক্রিয় থাকলে বিভ্রান্তি এড়ানো যায়। সতর্কবার্তা দ্রুত পৌঁছায় বলে মানুষও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে।
আরও পড়ুন