EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

নোবেল ঘোষণার সময় কেন ফোনে মেলেনি নাভি পিল্লাইকে?

যুদ্ধ থামিয়ে নয়, বিচার করে শান্তি আনলেন পিল্লাই

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

নোবেল ঘোষণার সময় কেন ফোনে মেলেনি নাভি পিল্লাইকে?

নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৬ জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই। ছবি: গেটি ইমেজ

অ অ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পেয়েছেন, তা এতক্ষণে পুরো বিশ্ব জেনে গেছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ৮৫ বছর বয়সী প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার সময় যে মজার কাণ্ডটি ঘটেছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। নরওয়ের অসলোতে যখন নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস তাঁর নাম ঘোষণা করছেন, নাভি পিল্লাই তখনো জানতেনই না যে তিনি নোবেল পেয়ে গেছেন!

সংবাদ সম্মেলনের লাইভ অনুষ্ঠানে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেসে বললেন, ‘আমরা চেষ্টা করেও ওনাকে ফোনে পাচ্ছি না! ওনার উদ্দেশ্যে আমাদের বার্তা—যদি আপনার ফোনে নরওয়ের কোনো নম্বর (+৪৭) থেকে কল আসে, দয়া করে ফোনটি ধরুন।’ এই ঘোষণা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, ওয়াশিংটনে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন, ‘ধুর! নোবেল কমিটি আমাকে না খুঁজে কাকে খুঁজছে!’

অনেকেই মনে করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার মানেই হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে সাদা পায়রা ওড়ানো বা বিবদমান দুই দেশের মধ্যে হ্যান্ডশেক করিয়ে দেওয়া। কিন্তু নাভি পিল্লাইয়ের শান্তির রেসিপিটি একটু ভিন্ন এবং অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। নোবেল কমিটির মতে, আসল শান্তি আসে বড় বড় অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করালে, আর নাভি পিল্লাই তাঁর পুরো জীবন এই আইনি লড়াইয়ের পেছনেই উৎসর্গ করেছেন।

১৯৯০-এর দশকে রুয়ান্ডার ভয়াবহ গণহত্যার পর গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তিনি বিচারক ছিলেন। তিনিই ইতিহাসে প্রথম আইনিভাবে প্রমাণ করেন যে, যুদ্ধের সময় সুপরিকল্পিতভাবে ‘ধর্ষণ’ করা শুধু সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মূলত ‘গণহত্যা’ বা জেনোসাইডের অংশ। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিয়ে তিনি নির্যাতিত নারীদের মনে শান্তি এনে দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন চরম বর্ণবৈষম্য চলছিল, তখন ডারবানের এক তামিল বংশোদ্ভূত সাধারণ পরিবার থেকে এসে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী আইনজীবী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বহু রাজনৈতিক বন্দীর অধিকারের পক্ষে আদালতে বুক চিতিয়ে লড়েছেন।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সেই সময়ে বিশ্বের বড় বড় দেশের প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কড়া কথা শোনাতে তিনি এক সেকেন্ডও দ্বিধা করেননি।

অতি সম্প্রতি তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘের স্বাধীন কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) বিচারক হিসেবে কাজ করছেন। অর্থাৎ, এই বয়সেও তিনি বিশ্বজুড়ে বড় বড় অপরাধীদের ঘুম হারাম করে রেখেছেন।

পুরস্কারের মূল্য কত?

বলা বাহুল্য, বিশ্বজুড়ে এই শান্তি বজায় রাখার পুরস্কারও কিন্তু বেশ বড়সড়। মেডেল ও সনদের পাশাপাশি নাভি পিল্লাই পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৪ কোটি টাকারও বেশি)।

সুতরাং, আপনি যদি ভাবেন ঘরে বসে শান্তিতে ঘুমিয়ে বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নোবেল শান্তি পাবেন, তবে ভুল ভাবছেন। শান্তি পেতে হলে নাভি পিল্লাইয়ের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লাঠি নিয়ে নামতে হবে।

তবে হ্যাঁ, তার আগে আপনার ফোনে আসা অচেনা নম্বরগুলোর কল অন্তত রিসিভ করা শুরু করুন। কী জানি, কখন ওপার থেকে নরওয়ের কেউ বলে ওঠে, ‘হ্যালো, আপনি নোবেল পেয়েছেন!’

আরও পড়ুন