EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

নোবেল শান্তি পুরস্কার আসলে কোন শান্তির জন্য?

অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হবে আগামীকাল; তা জানতে উদগ্রীব পুরো বিশ্ব

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

নোবেল শান্তি পুরস্কার আসলে কোন শান্তির জন্য?

অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হবে আগামীকাল। ছবি: রয়টার্স

অ অ

অক্টোবর মাস মানেই বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত ‘শান্তি শান্তি’ রব। কারাবন্দী কোনো মানবাধিকার কর্মী, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা কোনো তরুণী, নাকি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে কাজ করা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা—কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার, তা নিয়ে চলে তুমুল বিশ্লেষণ। আলফ্রেড নোবেলের সেই বিখ্যাত উইল মেনে প্রতিবছর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এমন কাউকেই খুঁজে নেয়, যিনি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে শান্তিদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

কিন্তু কখনো কি গভীর রাতে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভেবে দেখেছেন—এই যে এত বড় ‘শান্তি’র আয়োজন, সেখানে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের শান্তিগুলো কোথায়? বিশ্বমঞ্চের যুদ্ধ থামানোর জন্য যদি কোটি টাকার পুরস্কার আর স্বর্ণপদক থাকতে পারে, তবে প্রতিদিন নিজের ভেতরের ‘যুদ্ধ’ থামিয়ে যে মানুষটি বেঁচে থাকার লড়াই করছে, তার মানসিক শান্তির নোবেলটা কে দেবে? কিংবা তীব্র ভাঙন আর কলহের মাঝেও যে মা বা বাবা পুরো পরিবারকে আগলে রাখছেন, তাদের সেই পারিবারিক শান্তির স্বীকৃতিটাই বা কোথায়?

ভেতরের যুদ্ধ বনাম বাইরের যুদ্ধ

নোবেল শান্তি পুরস্কার মূলত দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সংঘাত নিরসন, নিরস্ত্রীকরণ কিংবা মানবাধিকার রক্ষার মতো সামষ্টিক অবদানের জন্য। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর বড় বড় যুদ্ধগুলোর সূত্রপাত কিন্তু মানুষের মনের ভেতর থেকেই হয়। লোভ, ক্ষোভ আর মানসিক অস্থিরতা যখন সমষ্টিগত রূপ নেয়, তখনই জন্ম নেয় যুদ্ধ।

আজকের করপোরেট দুনিয়ায় কিংবা প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সমাজে একজন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা নিজের মনের সাথে। বিষণ্নতা, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, ট্রমা কিংবা তীব্র এনজাইটি (উদ্বেগ)—এসবের মধ্য দিয়ে গিয়েও যারা প্রতিদিন সকালে হাসিমুখে ডেস্কে এসে বসছেন, তারা কি একেকজন শান্তিদূত নন? নিজের ভেতরের অশান্ত সমুদ্রকে শান্ত রাখার এই যে আপ্রাণ চেষ্টা, তা বৈশ্বিক কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম নয়।

আমরা প্রায়ই খবরের কাগজে দেখি দুই দেশের ঐতিহাসিক ‘শান্তি চুক্তি’। কিন্তু প্রতিদিন প্রতিটি মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারে যে কত শত অলিখিত শান্তি চুক্তি হচ্ছে, তার খবর ক’জন রাখে?

সংসারের টানাপোড়েন, সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চিন্তাভাবনার অমিল—এত কিছুর পরও দিনশেষে ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে যখন এক বাটি ভাত ভাগ করে খায়, সেটাই তো আসল শান্তি। ভাঙনের হাত থেকে একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখা, সন্তানের মুখে একটুখানি মানসিক স্বস্তি তুলে দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের যে আত্মত্যাগ, তা কোনো আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনের চেয়ে কম গৌরবময় নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই পারিবারিক শান্তির কোনো গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার নেই, নেই কোনো জুরি বোর্ড।

আপনার নোবেল আপনার কাছেই

নোবেল শান্তি পুরস্কার অবশ্যই বিশ্ব মানবতার জন্য এক পরম অনুপ্রেরণা। কিন্তু ডেইলি সান অনলাইনের পাঠকদের জন্য আজ একটি ভিন্ন বার্তা রইল—আসুন, আমরা আমাদের চারপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শান্তিদূতদের খুঁজে বের করি।

যিনি শত কষ্টের মাঝেও পরিবারে এক চিলতে হাসি ধরে রেখেছেন, তাকে আজ একটা ধন্যবাদ দিন। যে বন্ধুটি নিজের মানসিক অবসাদের সাথে লড়াই করেও আপনাকে ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ বলে সান্ত্বনা দিচ্ছে, তাকে বলুন—‘তুই-ই আমার নোবেলজয়ী শান্তিদূত।’

বিশ্বরাজনীতির শান্তি বড় মঞ্চে উদযাপিত হোক, আর আমাদের মনের ও ঘরের শান্তিগুলো বেঁচে থাকুক প্রতিদিনের ভালোবাসায় ও যত্নে। কারণ দিনশেষে, মনের ভেতরে ও ঘরের ভেতরে শান্তি না থাকলে ওসলোর ওই নোবেল পদকও মানবজাতিকে প্রকৃত সুখে হাসাতে পারবে না।

ইমন/ডেইলি সান

আরও পড়ুন