EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ঢাকার রাস্তায় কেন এত জনপ্রিয় ফুচকা?

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

ঢাকার রাস্তায় কেন এত জনপ্রিয় ফুচকা?

বিকেলের আড্ডায় জিভে জল আনা চটপটা ঘরোয়া ফুচকা। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বিকেল গড়াতেই ঢাকার ব্যস্ত মোড়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা শপিং মলের সামনে চেনা এক দৃশ্য চোখে পড়ে। একদল তরুণী, শিক্ষার্থী বা বন্ধু গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একটি ফুচকার ভ্যান ঘিরে। বিক্রেতা পরম মমতায় মচমচে ফুচকা ভেঙে ভেতরে পুর ঢুকিয়ে টক জলে ডুবিয়ে প্লেটে দিচ্ছেন, আর তৃপ্তির হাসিতে তা মুখে পুরছেন ভোজনরসিকেরা।

স্ট্রিট ফুডের স্বীকৃতি পাওয়া এই খাবারের প্রতি বিশেষ করে মেয়েদের টান যেন একটু বেশি। কিন্তু ফুচকায় কি এমন আছে যে মেয়েরা এত পছন্দ করে? এর কি কোনো স্বাস্থ্যগত উপকারিতা আছে, নাকি এটি কেবলই রোগের উৎস? চলুন মেলানো যাক সেই প্রশ্নের উত্তর।

মেয়েরা কেন ফুচকা এত পছন্দ করে?

ফুচকা একই সাথে মিষ্টি, টক ও ঝালের এক অপূর্ব মিশ্রণ। বৈজ্ঞানিকভাবেই নারীদের জিভে ঝাল-টক স্বাদের প্রতি অনুভূতি পুরুষদের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।

হরমোনের ওঠানামার কারণে মেয়েদের শরীরে প্রায়ই চটপটা খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। ফুচকার তেঁতুলে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরে ‘এনডোরফিন’ বা হ্যাপি হরমোন ক্ষরণ বাড়ায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করে।

ফুচকা একা বসে খাওয়ার খাবার নয়। এটি মূলত আড্ডা জমানোর অনুষঙ্গ। ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে গল্প করা, কার ঝাল বেশি লাগল তা নিয়ে হাসাহাসি করা—সব মিলিয়ে এটি একটি চমৎকার সামাজিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

রাজধানীর গুলশানে বিক্রি হচ্ছে ফুচকা। ছবি: অর্কিড চাকমা

এটি কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

ফুচকার টক জলে ব্যবহৃত তেঁতুল, লেবু, ধনেপাতা, বিট লবণ এবং ভাজা জিরার গুঁড়ো পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে। এটি গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ফুচকা যদি ডুবো তেলে না ভেজে এয়ার ফ্রায়ারে বেক করা যায়, তবে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

জ্বর বা সর্দি-কাশির পর মুখের অরুচি দূর করতে ফুচকার টক-ঝাল জল দারুণ কার্যকর।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি

রাস্তার ফুচকার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অনিরাপদ জলের ব্যবহার। তেঁতুলের টক বানাতে অনেক সময় সরাসরি ট্যাপের জল বা দূষিত জল ব্যবহার করা হয়, যা থেকে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ ছড়ায়।

ফুচকার শেল বা পুরিগুলো বারবার একই পোড়া তেলে ভাজা হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট বা পোড়া তেল হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিক্রেতাদের অপরিষ্কার হাত, খোলা অবস্থায় খাবার রাখা এবং রাস্তার ধুলাবালির কারণে ফুচকা পেটের ইনফেকশন ও গ্যাস্ট্রিক আলসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।

ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ফুচকা

বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিহার করে ঘরেই খুব সহজে পুষ্টিকর উপায়ে স্বাস্থ্যকর ফুচকা তৈরি করা সম্ভব। নিচে এর সহজ রেসিপি দেওয়া হলো:

প্রয়োজনীয় উপকরণ

• ফুচকার শেল বা পুরির জন্য: সুজি (৪ কাপ), ময়দা (১ কাপ), তালমাখনা বা বেকিং সোডা (সামান্য), লবণ ও জল পরিমাণমতো এবং ভাজার জন্য তেল।

• ভেতরের পুরের জন্য: সেদ্ধ ডাবলি বা চটপটির ডাল, সেদ্ধ আলু (ম্যাশ করা), কাঁচা মরিচ কুচি, পেঁয়াজ কুচি এবং ধনেপাতা কুচি।

• স্পেশাল মসলা: ভাজা জিরা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, শুকনা মরিচ টালা গুঁড়ো (চিলি ফ্লেক্স) এবং বিট লবণ।

• টক জলের জন্য: পাকা তেঁতুলের ক্বাথ, ফিল্টার করা জল, লেবুর রস, চিনি ও চাট মসলা।

প্রস্তুত প্রণালী

শেল তৈরি: সুজি, ময়দা, সামান্য তালমাখনা ও জল দিয়ে শক্ত খামির তৈরি করে আধা ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এরপর পাতলা রুটি বেলে ছোট ছোট গোল আকারে কেটে নিন। ডুবো তেলে মচমচে করে ভেজে নিন। (আরও স্বাস্থ্যকর করতে চাইলে তেল ছাড়া এয়ার ফ্রায়ারেও এটি বেক করতে পারেন)।

পুর প্রস্তুত: সেদ্ধ চটপটির ডালের সাথে সেদ্ধ আলু চটকে নিন। এর সাথে স্পেশাল ভাজা মসলা, বিট লবণ, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা কুচি খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন।

টক জল তৈরি: ফিল্টার করা পরিচ্ছন্ন জলে তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে নিন। এরপর এতে স্বাদমতো চিনি, বিট লবণ, লেবুর রস ও ভাজা জিরার গুঁড়ো দিয়ে চটপটা টক জল বানিয়ে নিন।

পরিবেশন: এবার ভাজা ফুচকার মাঝে আঙুল দিয়ে গর্ত করে ভেতরে আলুর পুর ঢুকিয়ে দিন। ওপরে সেদ্ধ ডিমের কুচি ছড়িয়ে টক জল দিয়ে পরিবেশন করুন চমৎকার ঘরোয়া ফুচকা।

ফুচকা শুধু একটি স্ট্রিট ফুড নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির সাথে মিশে থাকা এক আবেগের নাম। তবে মুখরোচক এই খাবারের আনন্দ তখনই বজায় থাকবে, যখন এটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত করা হবে। তাই মন ভালো রাখতে ফুচকা অবশ্যই খাবেন, তবে তা যেন অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন