EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

পর্যটনে এগিয়ে নেপাল-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে

প্রকৃতি অকৃপণ হলেও ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ঘাটতিতে পর্যটনে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

পর্যটনে এগিয়ে নেপাল-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, যা বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম বড় প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

হিমালয়ের বরফ পাহাড় নেই নেপালের মতো, নেই শ্রীলঙ্কার মতো দ্বীপরাষ্ট্রের রোমাঞ্চও। তবু বাংলাদেশের ঝুলিতে আছে পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবন, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান আর পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘ-পাহাড়। প্রশ্ন একটাই—এত সম্ভাবনা নিয়েও পর্যটনে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে, যেখানে প্রতিবেশী নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এই খাত থেকেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে?

নেপাল তাদের জিডিপির একটি বড় অংশ আয় করে পর্যটন থেকে। আর শ্রীলঙ্কা—যে দেশটি সাম্প্রতিক অতীতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল—সেই সংকট থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূলত পর্যটনকে সম্বল করেই। অথচ বাংলাদেশের পর্যটন খাত এখনো মূলত অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি পর্যটক টানার গ্রাফ এখনো অনেকটাই নিচের দিকে।

প্রকৃতির অভাব, নাকি অন্য কিছু

অনেকেই মনে করেন, নেপালের মতো তুষারাবৃত পাহাড় বা শ্রীলঙ্কার মতো দ্বীপরাষ্ট্রের রোমাঞ্চ না থাকাই বিদেশি পর্যটক না আসার কারণ। কিন্তু এই ধারণাটি ভুল। পর্যটন বিকাশের চাবিকাঠি প্রকৃতি কতটা দিয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে যা আছে তাকে কীভাবে উপস্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে তার ওপর।

মালদ্বীপের কাছে শুধু নীল জল আর বালুচর আছে, পাহাড় নেই। তবু তারা এটিকেই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিলাসবহুল গন্তব্যে রূপ দিয়েছে। অন্যদিকে ভুটানের বরফ পাহাড় থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের সংস্কৃতি এবং পরিবেশবান্ধব ‘হাই ভ্যালু, লো ভলিউম’ নীতির মাধ্যমে প্রিমিয়াম পর্যটক টানে। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মতো রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল কিংবা টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো বিশাল জলাভূমি পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি দেশেই আছে। তাই ‘পর্যটন কেন্দ্র কম’ বা ‘বরফ পাহাড় নেই’—এসব যুক্তি আসল কারণ নয়।

সংকট আসলে কোথায়

আসল সমস্যা লজিস্টিক সহায়তায়। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়া এবং মানসম্মত হোটেলের খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার মতো জোরালো আন্তর্জাতিক বিপণন বা ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংও নেই বললেই চলে।

দেশের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্রে এখনো ক্যাশলেস লেনদেন, কেন্দ্রীয় বুকিং অ্যাপ কিংবা বিদেশি পর্যটকদের পথ দেখানোর মতো আধুনিক ট্র্যাকিং বা এআই-নির্ভর তথ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। অর্থাৎ প্রকৃতি যা দিয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করার মতো অবকাঠামো ও প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি।

প্রযুক্তিই হতে পারে সমাধান

বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ভ্রমণের পুরো অভিজ্ঞতা। এআই এখন একজন পর্যটকের আগের পছন্দ বিশ্লেষণ করে সেকেন্ডের মধ্যেই বানিয়ে দিতে পারে তার নিজস্ব ভ্রমণ পরিকল্পনা। কোনো পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশের ক্ষতি করছে কি না, তা-ও এআই রিয়েল-টাইম উপাত্ত দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারে—পর্যটকদের কম ভিড়ের বিকল্প পথে পাঠিয়ে রক্ষা করতে পারে বাস্তুতন্ত্র, নিশ্চিত করতে পারে টেকসই পর্যটন। এমনকি রিয়েল-টাইম এআই অনুবাদক ব্যবহার করে এখন বিশ্বের যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদেশি পর্যটকরা স্থানীয়দের সঙ্গে অনায়াসে কথা বলতে পারছেন।

বিশ্ব যখন এআই ও ডিজিটাল এজেন্ডা দিয়ে পর্যটন খাতকে নতুন করে সাজাচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য এটাই সময় এগিয়ে আসার। সহজ ভিসা প্রক্রিয়া, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে নিজেদের সম্পদকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারলে বরফ পাহাড় ছাড়াই বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন